৮ ডিসেম্বর ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের বিভক্ত হয়ে পড়েছে সিলেট বিএনপি। সিলেট-১ (সদর-সিটি কর্পোরেশন) আসনে দলের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির বিরোধ আবারো প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘ দিন থেকে মাঠে সক্রিয় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মনোনয়ন আটকাতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ তার অনুসারিরা।
সিলেট বিএনপিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এবং এই ইলিয়াস আলীর অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে অনেক ভুগতে হয়েছে দলটিকে। সাইফুর রহমান প্রয়াত হয়েছেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ, দলেরও এখন চরম দুর্দিন। তবু বিভেদ ঘুচেনি দলটির নেতাকর্মীদের।
বরং সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন সিলেটের বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলের মনোনয়ন পাওয়া দুই প্রার্থী ইনাম আহমদ চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সিলেট বিএনপির নেতারা। এতোদিন এই বিভক্তি আড়ালে থাকলেও শুক্রবার তা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরীকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে শুক্রবার বিএনপির মহাসচিবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ দলটির ৫১ নেতা। যাদের সকলেই সাইফুর অনুসারী বলে পরিচিত।
আবার সিলেট বিএনপিতে ইলিয়াস আলী অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতারা অবস্থান নিয়েছেন খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে। তারা মুক্তাদিরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ফলে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপিতে ফের দেখা দিয়েছে সাইফুর-ইলিয়াস বলয়ের পুরনো বিভক্তি। নেতাদের এমন বিভক্তি নির্বাচনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন কর্মীরা।
সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। সে সময় সিলেট বিএনপিতে সাইফুর রহমান ও ইলিয়াস আলী অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি ছিলো তুঙ্গে। সে নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনেই পরাজিত হয় বিএনপি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫১ বিএনপি নেতা সাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- চিঠিতে বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন- সিলেট-১ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ থেকে সবসময়ই হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনীত করা হয়। এবারও এই আসনে আওয়ামী লীগ জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি সাবেক সচিব, অর্থমন্ত্রীর ভাই আব্দুল মোমেনকে মনোনীত করেছে। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের অভিমত হচ্ছে যদি এই আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হলে এই আসনটি আপনাকে উপহার দেয়া সম্ভব হবে।
বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, এই আসনটিতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করার ফলে ভোটের মাঠে ইনাম বআহমদ চৌধুরীর চেয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভালো অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। আর অর্থমন্ত্রীর সাথে ‘ভালো’ সম্পর্ক থাকার কারনে ড. মোমেনের বিজয়ী হতে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইনাম আহমদ চৌধুরীই বেশী পছন্দ মেয়র আরিফের। যে কারনে ড. মোমেনের বিজয়কে সহজ করতেই ইনাম চৌধুরীকে প্রার্থী করতে চাচ্ছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
আর মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক বলেন, খন্দকার মুক্তাদির তৃণমূলের নেতা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে পছন্দ করে। তাকে সব সময়ই কাছে পাওয়া যায়। ফলে এই আসন পুনরুদ্ধারে মুক্তদারিকেই মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন।
এরআগে গত সিটি নির্বাচন নিয়েও সিলেট বিএনপিতে বিভক্তি দেখা দেয়। আরিফুল হককে কেন্দ্র থেকে দলীয় মেয়র প্রার্থী করা হলেও মহানগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী প্রার্থী হন। পরে কেন্দ্রের চাপে সেলিম সরে দাঁড়ালেও আরিফের পক্ষে মাঠে নামেননি তিনি।
এরআগে হেভিওয়েটের গ্যাঁড়াকলে পড়তে হয়েছিলো খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আব্দুল মালিককেও। সিলেট-১ আসনে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার মালিক। তবে ১৯৯৬ সালে তাকে সরিয়ে প্রার্থী হয়ে সিলেটের রাজনীতি দখলে নেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ২০০৮ পর্যন্ত তারই আধিপত্য ছিল সিলেটে।