১০ নভেম্বর ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছেই উপেক্ষিত হলো অনলাইন গণমাধ্যম। উপেক্ষা এবং হেয় করার এমন ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার । ঐদিন সিলেট নগরীর একটি হোটেলে দলীয় মনোনয়ন পেতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন আওয়ামীলীগ নেতা জগলু চৌধুরী এ্যডভোকেট মাহফুজুর রহমান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের দুটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছাত্রলীগের সাবেক দুই ছাত্রনেতা জগলু চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মাহফুজ। বর্তমানে তারা দুজনই জেলা আওয়ামী লীগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীতার ঘোষণা দেন তারা। এদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে এবং জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর- গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য করা আবশ্যক, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামীলীগে ভোট দেয়। নির্বাচনের পর তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসনীয়। আর ডিজিটাল বাংলাদেশেরই অন্যতম নজির অনলাইন গণমাধ্যম। দেশে এখন অনলাইন গণমাধ্যম সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু খোদ আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছেই যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের এই ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম উপেক্ষিত তখন- স্বাভাবিকভাবেই এটি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
সিলেট কর্মরত অনলাইন গণমাধ্যমর্কমীরা বিষয়টি নিয়ে গভির ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সিলেটে সকল প্রশাসনিক দপ্তর ও রাজনৈতিক দলগুলোর সংবাদ সম্মেলনে অনলাইন গণমাধ্যম আমন্ত্রণ পেয়ে থাকে এবং ব্যানারেও প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের বিষয়টি উল্লেখ থাকে। কিন্তু আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই দুই নেতার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অনলাইন গণমাধ্যমকে উপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই নেতার সকল সংবাদ অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচার না করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
অনলাইন মিডিয়ায় কি নিউজ কাভারেজ লাগবেনা ? জগলু চৌধুরীর কাছে এমসন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া তো অনলাইন মিডিয়ারই একটি অংশ।
বিষয়টি জানতে জানতে চাইলে সিলেট-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এ্যডভোকেট মাহফুজুর রহমান বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম সম্পর্কে আমার জানা নেই।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, খোদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই যদি সরকারের ডিজিটাল গণমাধ্যম বিষয়ে অজ্ঞ হন তবে তারা কিভাবে আইনসভায় ভূমিকা রাখবেন।
ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের বিষয়ে যার কোন ধারনা নেই তিনি কিভাবে দলের মনোনয়ন পাবেন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভুমিকা রাখবেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেখানে আমাদের বর্তমান সংসদ সদস্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন সেখানে যিনি নৌকার মনোনয়ন চাইছেন তার ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই। নেত্রী সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবেন না।