২৭ অক্টোবর ২০১৮
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : স্ত্রীর অধিকার দাবি করে প্রেমিক মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নের বুন্দাবনপুর গ্রামের নীলমনি দাসের ছেলে প্রাবাসী সজল দাসের বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছে প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা দাস (১৯)।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে।
দীর্ঘদিনের প্রেম, অতপর দৈহিক সম্পক ও মুঠোফোনে অশ্লীল ছবি ধারণ দুই দফা বিচার বৈঠকে সমাধান না হওয়ায় স্ত্রীর দাবীতে এমন কান্ড করেছে প্রেমিকা। আকস্মিকভাবে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অবস্থান নিলে প্রেমিকের পরিবার সদস্যরা তাকে(প্রেমিকাকে) দুই দফা মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর গ্রামের নীলমনি দাসের ছেলে ওমান প্রবাসী সজল দাস (২২) এর সাথে বৈরাগীরচক (বৃন্দাবনপুর) গ্রামের প্রদীপ দাসের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দাস (১৯) এর সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রিয়ঙ্কা যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ছিল তখন থেকে সজলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি ওমান থেকে প্রেমিক সজল দাস দেশে ফিরে এসে প্রিয়াঙ্কার সাথে দেখা করে। প্রিয়াঙ্কাকে চাপ সৃষ্টি করে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও দৈহিক সর্ম্পক গড়ে তুলে। সাথে সাথে মুঠোফোনে গোপনে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও চিত্রধারণ করে। এই ধারণকৃত দৃশ্যও আবার লোকজনদের দেখানো হয়। এতে প্রিয়াঙ্কা অসম্মান বোধ করে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার প্রার্থনা করে।
পতনউষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ ও সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী, ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দুই দফা সালিশ বিচার বসে। সালিশ বিচারে কোন সমাধান না হলেও প্রেমিক সজল দাস আত্মগোপন হয়। এর প্রতিবাদে প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা দাস স্ত্রীর অধিকার দাবি করে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়। সজল দাসের বাড়িতে প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা দাসের সাথে কথা হলে সে সমুহ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলে এখন সে স্ত্রীর অধিকার আদায়ে ঐ বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। এ বাড়ি থেকে তাকে তাড়াতে গত শুক্রবার রাতে দুই দফা ও আজ শনিবার আরও এক দফা মারধর করা হয়।
প্রিয়াঙ্কা দাসের বাবা প্রদীপ দাস অভিযোগ করে বলেন, এমনিতেই প্রতারণা করে সজল দাস এতসব ঘটনা ঘটিয়েছে তার পর তার মেয়ে সে বাড়িতে অবস্থান নিলে সে বাড়ির লোকজন শুক্রবার রাতে দুই দফা প্রিয়াঙ্কাকে মারধর করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে নীলমনি দাস উল্টো কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন।
পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমেদ বলেন, ছেলেটি বিষয়টি প্রথম পর্যায়ে অস্বীকার করলেও মুঠোফোনের আলামতে তা প্রমাণিত হয়। ২য় বৈঠকে ছেলে উপস্থিত না হওয়ায় সমাধান হয়নি। তিনি আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কার পরিবারকে।
ঘটনা সম্পর্কে সজল দাসের বাবা নীলমনি দাস বলেন, এলাকার কিছু মানুষ জোর করে মেয়েটিকে আমার বাড়িতে এনে দেন। ছেলে সজল দাস কয়েকদিন ধরে বাড়িতে নেই। কোথায় গেছেন তা তিনি জানেন না।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, এরকম ঘটনাটি শুনেছেন। তবে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।