১৭ অক্টোবর ২০১৮
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীরা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে এলেও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছেন না নীতিনির্ধারকরা। ফলে পদপ্রত্যাশীসহ সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে দলীয় কোন্দল থাকায় স্থানীয় ছাত্রলীগেও তা ভর করেছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পৃথক বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের। একই দলের হয়েও দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাপ-নেউল সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে নেতৃত্বহীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গ্রুপিং-লবিং নিয়ে সরব থাকলেও ছাত্রলীগের মূল কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
২০০২ সালের জানুয়ারী মাসে তাজপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি ফয়ছল হোসেন সুমনকে সভাপতি ও রিংকু পালকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট ওসমানীনগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের দুই বছরের মাথায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে গেলে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে উপজেলা ছাত্রলীগ। ২০০৫ সালের প্রথম দিকে ওসমানীনগর ছাত্রলীগের সুমন-রিংকুর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় জেলা কমিটি।
ওসমানীনগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের নাম প্রস্তাব করে জেলা ছাত্রলীগের নিকট পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কোন্দলে জর্জরিত স্থানীয় নেতারা একমত হতে না পারায় জেলা ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা থেকে বিরত থাকে। এরপর থেকে প্রায় ১৩ বছর ধরে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে নেতাকর্মীরাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। পাশাপাশি উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন কমিটিও নেতৃত্ব বিহিন থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্রমেই নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েছেন।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলু চৌধুরী বলেন, ওসমানীনগর ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার পর চেষ্টা করেছি নতুন আরেকটি কমিটি দেয়ার। দলীয় কোন্দল মিটিয়ে স্থানীয় নেতারা একমত না হওয়ায় কমিটি দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে দু-এক মাসের মধ্যেই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আশা করছি, উক্ত কমিটি গঠনের পর দ্রুততার সাথে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হবে।