১০ অক্টোবর ২০১৮
তাওহীদ রাসেল ও জাবের আলম : আরিফুল হক চৌধুরী ও বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। দুজনেই নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয়। একজন বর্তমান মেয়র আর একজন সাবেক মেয়র। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও মাঠ ছাড়েননি তিনি। আর নির্বাচনে জয়ের পরই পুনরায় দলের কর্মসূচি এড়িয়ে চলছেন আরিফুল হক চৌধুরী। দলের সিনিয়র নেতাদের দূর্দিনেও পাওয়া যাচ্ছেনা তাকে। এনিয়ে ক্ষোব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বুধবার ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নগরীর রাজপথ দখলে রাখলেও কোথায়ও পাওয়া যায়নি বিএনপির মনোনয়নে পুনরায় নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে।
রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কোর্ট পয়েন্ট দখলে নেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। আর রায় ঘোষনার পর নগরীর জেল রোড এলাকায় রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা ও মহানগর বিএনপি। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত চৌধুরী সাদেক ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তবে বিএনপির মিছিলে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সহ অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মেয়র আরিফ ঢাকায় অবস্থান করেছন। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের ঢাকায় জরুরী অপারেশন হয়েছে। আর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম সিলেটে অবস্থান করেও মিছিলে অংশ নেননি।
নগর বিএনপির তৃণমূল নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র কিছু দিন আগেও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি বিক্রি করে যিনি মেয়রের চেয়ারে বসলেন। আর বসেই দলের নেতার দুর্দিনে তিনি স্টকে পড়লেন। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে আমাদের দলের এই অবস্থা।
সিলেট জেলা বিএনপির এক পদবীদারী নেতা বলেন, মেয়রের চেয়ারে বসার দিন বুকের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি যে অভিনয় করেছেন তা আজ প্রমানিত। দলের হাইকমান্ডকে এদের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। সুবিধাবাদিরা সব সময় এরকম আচরণ করে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আজকের সিলেটকে বলেন, এটি তাৎক্ষনিক মিছিল ছিলো তাই মেয়র উপস্থিত হতে পারেন নি। মেয়র মহোদয় মিছিলে থাকলে মিছিলটি আরো সমৃদ্ধ হতো।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত চৌধুরী সাদেক আজকের সিলেটকে বলেন, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করলে সফলতা আসবে। আর মেয়রের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি নিজেই বলতে পারবেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ আজকের সিলেটকে বলেন, মেয়রের সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এজন্য মিছিলে আসতে পারেন নি। আগামীদিনের কর্মসূচীতে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।