২৮ আগস্ট ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : যানযট এবং দুর্ঘটনা রোধে একসময় দাবি উঠে ফুট ওভারব্রিজ নির্মানের। দাবি জোরালো হলে দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ওভারব্রিজ নির্মানে সম্মতি প্রকাশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের ইচ্ছায় জি টু জি প্রকল্পের আওতায় কোর্ট পয়েন্টে স্থাপিত হয় এই সিলেটের প্রথম ফুট ওভারব্রিজ। প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে নির্মিত হলে অর্থমন্ত্রীই নিজে এটির উদ্বোধন করেন।
কিন্তু ব্রিজ নির্মানের পরও টনক নড়েনি নগরবাসীর। প্রথম প্রথম কিছু লোক ব্রিজ দিয়ে শখের বসে পারাপার করলেও এখন ব্রিজটি ব্যবহার করছেননা কেউই। অবশ্য, ব্রিজটি ব্যবহারের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে কোনোরকম সচেতনতা বা প্রচারণাও চোখে পড়েনি নগরবাসীর। ফলে কিছুদিন আগেও যেখানে সেল্ফি তোলার হিড়িক ছিল, এখনও তাও চোখে পড়েনা একেবারেই।
এদিকে, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের শখের প্রজেক্ট সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে নির্মিত ফুট ওভারব্রিজটি রীতিমতো সিলেট সিটি করপোরেশনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অব্যবহৃত এই ব্রীজটি সিসিক না পারছে সরাতে না পারছে রাখতে। শুরু থেকেই ব্রীজটি সমালোচনার মুখে পড়ে।
ব্রিজটি বন্দর পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ সুরমায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সিসিক। এতে নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় সমান খরচ হবে বিধায় ব্রিজটি সরিয়ে নেয়ার চিন্তা থেকে সরে আসেন তারা। এরপর ২০১৯ সালের শেষের দিকে ব্রিজটি নিলামের জন্য দরপত্র আহবান করে সিসিক। নিলামে আশানুরূপ দাম না উঠায় নিলাম বাতিল করা হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ব্রিজটি নিয়ে ভাবছে না সিসিক।
এদিকে, ক্রমাগত যানজট নিরসনের তাগিদে নির্মিত এই ফুট ওভারব্রিজটি উল্টো যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালেক্টরেট মসজিদ সংলগ্ন ব্রিজের দুটি প্রবেশ মুখে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড থাকার কারণে এখানে সবসময় যানজট লেগেই থাকে। ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায় না লোকজনকে। মাঝে মধ্যে যারা ব্রিজটিতে ওঠেন তা নিতান্তই শখের বসে।
এছাড়া ব্রীজটি ব্যবহার হয়েছে শুধু রাজনৈতিক সভা সমাবেশের ব্যানার পোস্টার সাঁটানোয় আর কিছু মাদকসেবী ও দৃর্বৃত্তের অস্থায়ী আশ্রয় হিসাবে। ব্রিজটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার কারণে ব্রিজটি দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বরে স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করে সিসিক। পরে তা আর হয়ে উঠে নি।
এমতাবস্থায় ২০১৯ সালে বাধ্য হয়ে অব্যবহৃত ব্রিজটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সিসিক। কিন্তু সেখানেও বিধিবাম। ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ব্রীজটির দাম উঠে মাত্র ২২ লাখ টাকা। ব্রিজটি নির্মাণকালে মাত্রাতিরিক্ত খরছ দেখানো হয় বলে অনেকে মনে করেন। নতুবা লোহার এ ব্রিজ ৩ বছরের মাথায় ২২ লাখ টাকা নিলামে ওঠার কথা নয়।স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়ে সিলেটে সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে এই দামে ব্রিজটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সিটি কর্পোরেশন। এরপরে আবার ফুট ওভারব্রিজটি বিক্রি করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পুন:নিলামের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়।
তবে সিলেট কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ব্রিজটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। একটি নির্মাণ স্ংস্থার সাথে আমরা কথাও বলেছি। তারা যে বাজেট দিয়েছে তা প্রায় ব্রিজটি নির্মাণ ব্যয়ের সমান। তাই আমরা ব্রিজটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। পরবর্তীতে আমরা নিলামের জন্য দরপত্র আহবান করেছি। কিন্তু আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তা বাতিল করা হয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের আগেও বিরোধিতা করা হয়েছিলো। কিন্তু গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এ ধরনের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক।