৬ অক্টোবর ২০১৮


চলছে শেষ মুহুর্তের রং তুলির আঁচড়

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে হবিগঞ্জে মূর্তি তৈরি শেষে এখন চলছে রং তুলির আঁচড়ের কাজ। কারিগররা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই মূর্তি গুলোর কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

এদিকে আয়োজকদের দাবি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকলে শান্তিপূর্ণভাবে এবারের দুর্গাপূজা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। প্রশাসন বলছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন তারা। দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবছর হবিগঞ্জে ৫২৬টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। প্রতিটি মন্ডপেই মূর্তিগুলোকে রং তুলি দিয়ে সাজানো হচ্ছে। কারিগররা দিনরাত কাজ করে মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঢাকের কাঠিতে ঢোল বেজে উঠলেই ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্টিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পূজা উৎযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে পূজা উৎযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন হবিগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

কারিগর রঞ্জিত পাল জানান, দিন যত ঘনিয়ে আসছে তাদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। তিনি বলেন, এখন দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে কেননা পূজার আগেই সব মূর্তি তৈরি শেষ করতে হবে। একই এলাকার কারিগর নিরেন্দ্র পাল জানান, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করেও কাজ শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঠিকমতো খাওয়ারও সময় নেই শুধু কাজ আর কাজ। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গায় মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন রং তুলির কাজ করতে হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে রং তুলির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কারিগর মিশু সরকার বলেন, শুধু হবিগঞ্জে নয় আমাদের কাজ সিলেট মৌলভীবাজারেও রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই অন্যান্য স্থানে কাজ শেষ করতে হবে। যে কারণে কিছুটা টেনশনে আছি। কীভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করবো তা নিয়ে। তবে আনন্দের মধ্য দিয়েই কাজ করছি।

হবিগঞ্জ দেয়ানত শাহ বাড়ির পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুপুর রায় জানান, হবিগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গা। এখানে কোনও ধরনের সমস্যা হয় না। তবে আমাদের দাবি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হোক এবং প্রশাসন সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করুক। আর এটা থাকলে আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারব।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, এবারের পূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আয়োজক কমিটির স্বেচ্ছাসেবক ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আশাকরি, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি নাশকতার চেষ্টা করে তাহলে পুলিশ অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এছাড়াও এখন থেকেই প্রতিটি পূজামন্ডপ এর নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ জানান, দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবছেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবে যাতে করে কেউ কোন ধরণের বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

শেয়ার করুন