২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ বিল ২০১৮’ সংসদে উত্থাপিত হওয়ার পর বিলটি সরকার চাপে পড়ে তাড়াহুড়া করে তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করে সংসদে এই বিলের চরম বিরোধীতা করেছেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও সিলেট ৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদ্স্য সেলিম উদ্দিন।
বুধবার বিলটি সংসদে উত্থাপিত হওয়ার পর সেলিম উদ্দিন তার বক্তব্যে এই বিরোধীতা করেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, এই বিলটি ছোট হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশী। বিলটি সহজবুদ্ধ নয়। তাড়াহুড়া করার কারনে শিক্ষামন্ত্রীরও বিলটি পড়তে কষ্ট হচ্ছে। বিলটি পড়ে আমি যা বুঝতে পেরেছি, কওমী শিক্ষাকে সরকারী স্বীকৃতি দিলেও এখানে সরকারের তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। সরকারের একটি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আছে তার পরও আলাদা ৬টি বোর্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি ভূমিকা থাকে এখানে এরকম কিছু নেই। মনে হচ্ছে কোন একটটি চাপের মুখে বা তাড়াহুড়া করে যেমন খুশি তেমন একটা বিল। আমি মনে করি এরকম বিলটি পাস করা সঠিক হবেনা। এটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা ও মতামতের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এই বিলটি আবারো প্রস্তাবিত কমিটিতে প্রেরণ করার প্রস্তাব করছি।
এদিকে জাতীয় পার্টির মতো ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি দলের আর আর কওমী মাদ্রাসা আধ্যুসিত এলাকার সংসদ সদস্য হয়েও বিলটির চরম বিরোধীতা করে বিপাকে পড়েছেন হুইপ সেলিম উদ্দিন। মসারা দেশের কওমী মাদ্রাসা এবং তার নির্বাচনী এলাকায় এই বিরোধীতার প্রভাব পড়েছে। তাকে নিয়ে জরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন খোদ জাতীয় পার্টিও। দলটির হাইকমান্ড করছে সেলিম উদ্দিনের এমন বক্তব্যে দল চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, সেলিম উদ্দিনের এরমকম অনাকাংখিত বক্তব্য দলের জন্য খুবই বিব্রতকর। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে স্যার ইসলামের জন্য অনেক কাজ করেছেন। মসজিদের বিদ্যুৎবিল মওকুফ করেছেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার অনুমোদন দিয়েছেন। সেখানে এরকম ইসলাম বিরোধী বক্তব্য আমাদের জন্য, স্যারের জন্য সত্যিই বিব্রতকর। এটি সারেদেশে আগামী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে।
আমাদের কানাইঘাট প্রতিনিধি জানান, বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধেসেলিম উদ্দিনের নিজ নির্বাচনী এলাকা জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের আরেম সমাজ। তারা সেলিম উদ্দিনকে প্রতিহত করারও ঘোষনা দিয়েছেন।
স্থানীয় জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকার একাধিক কওমী মাদ্রাসার মুহতামিমরা জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে সেলিম উদ্দিন প্রতিটি মাদ্রাসায় গিয়ে দোয়া চেয়েছিলেন। আর তার মুখোশের অন্তরালে যে এতবড় ধর্ম বিদ্বেষ লুকিয়ে আছে তা আমরা বুঝতে পারিনি। সেলিম উদ্দিনকে কানাইঘাটে ডুকতে দেয়া হবেনা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাকে প্রতিহত করবে।
তাদের মতে, কওমী মাদ্রাসা আধ্যুসিত কানাইঘাটে ধর্ম বিদ্বেষীদের ঠাই হবেনা।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন