১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রোম (ইতালি) প্রতিনিধি : ৯ বছর আগে সিলেট থেকে ছোট খাটো চাকুরির পরিকল্পনা নিয়ে ইতালির রাজধানী রোমে পাড়ি দিয়েছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঘাগুয়া গ্রামের আব্দুল জব্বার ও আলেয়া খানমের পুত্র আলী আহমদ। সিলেট এমসি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী নেয়া আলী রোমে কর্মজীবন শুরু করেন একটি চেইন শপে সেলসম্যান হিসেবে।
এরপর শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। সততা, নিষ্টা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমই তাকে জীবনে সফলতা এনে দেয়। এমসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করে এর মধ্যে ২০১১ সালে দেশ থেকে ইতালি পাড়ি জমান তারই ছোট ভাই খালেদ আহমদ। খালেদ ইতালির নাপলী শহরে একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এখানে তিনি বেশ সুবিধা করতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে বড়ভাই আলী আহমদের পরামর্শে নাপলী থেকে পাড়ি জমান রাজধানী রোমে।
খালেদ রোমে যাওয়ার পরও চাকুরি পাচ্ছিলেন না। কিন্তু দৃড় মনোবলের অধিকারী খালেদ হাল ছাড়েন নি। একটি রেষ্টুরেন্টে তার এক পরিচিতজনের প্রক্সি হিসেবে চাকুরী শুরু করেন। কিন্তু নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে কিছুদিনের মধ্যে ঐ রেষ্টুরেন্টে সহকারী শেফ হিসেবে পদোন্নতি পান।
এদিকে খালেদের বড়ভাই আলী আহমদ ২০১৭ সাল পর্যন্ত যে চেইন শপটিতে চাকুরি করছিলেন সেই শপটিই কিনে নেন চাইনিজ বসের কাছ থেকে। বর্তমানে দুই ভাই মিলেই পরিচালনা করছেন চেইনশপটি।
দুই ভাইয়ের প্রবাস জীবনের গল্প শুনে অবাক হচ্ছিলাম, আন্দাজ করতে পারছিলাম তার সফলতার কারণ। সততা, নিরলস পরিশ্রম, একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতার ফলে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে রোমের মত রাজধানী শহরের ব্যবসায়ী Emporio Fiumicchina এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আহমদ ও সিইও খালেদ আহমদ। এই দুইভাই এখন সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্যতম বড় ও প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী।