১ সেপ্টেম্বর ২০১৮


ছাতকে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

শেয়ার করুন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে যত্রতত্র অনুমোদনবিহীন দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ আশেপাশের লোকজন দুর্ঘটনার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জের এই শিল্প শহরের যত্রতত্র এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে এর ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।

এমনকি সেলুন, মুদি দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রী, কসমেটিক্স, জুতার দোকান, ফার্নিচার ও ফোন-ফ্যাক্সের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এটি।

এখানের অধিকাংশ দোকানীর এলপি গ্যাস বিক্রির অনুমোদন নেই। অনেক দোকানে পুরাতন সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি দৃশ্যমান নয়।

এছাড়া অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন সাইজের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকাও নেই। এসব মৌসুমি দোকানীদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম কানুনও জানা নেই।

সস্তায় নিম্নমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোমপানির ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রির হিড়িক পড়েছে বিভিন্ন দোকানে।

বিশেষ করে ছাতক পৌরশহরে নতুন করে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ায় বাসা-বাড়ি ও রেষ্টুরেন্টে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এবং দামও রাখা হচ্ছে ইচ্ছেমতো।

বিশেষ করে উপজেলার কালারুকা, নোয়ারাই, গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়াবাজার, সিরাজগঞ্জ বাজার, ভাতগাঁও, ও দোলারবাজার এলাকা প্রবাসী অধ্যুষিত ও জনবহুল হওয়ার সুবাদে এখানে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেশি।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানান, এলপি গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে অনেকগুলো সংস্থা জড়িত।

এলপি গ্যাসের বাজার অভিভাবকহীন। স্থানীয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে করণীয় অনেক কিছুই আছে। যারা বিক্রি করছে তাদের ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনা চলছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লি­ষ্ট সকল দপ্তরের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সিলিন্ডার গুলোতে মেয়াদ উল্লেখের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে অনুমোদিত এলপি গ্যাস বিক্রেতারা জানান, তারা সরকারি অনুমোদন নিয়েই এলপি গ্যাসের পাশাপাশি অক্সিজেন, আরগন গ্যাস, মেডিক্যাল অক্সিজেন, প্রোপেন গ্যাস ও ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম বিক্রি করছেন।

তবে যত্রতত্র এলপি গ্যাস বিক্রির ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে অনুমোদিত বিক্রেতারা লোকসানের মুখে পড়ছেন, পাশাপাশি ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছেন।

এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করলে দূর্ঘটনা ঝুঁকি ও যত্রতত্র অনুমোদনহীন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি কমবে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবেদা আফসারী জানান, অনুমোদনহীন বিক্রেতার বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

(আজকের সিলেট/১ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন