২০ জুলাই ২০১৮


১০ নং ওয়ার্ডে মামা-ভাগ্নের লড়াই

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মামা ভাগ্নের নির্বাচনী প্রচারণায় আবারো সরগরম নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড। চলছে একে অপরের মুখোমুখি প্রচারণা। সম্পর্কে মামা ভাগ্নে হলেও নির্বাচনের মাঠে কেউ কাউকেই ছাড় দিতে রাজি নয়।

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক পরিচালক ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো. তারেক উদ্দিন তাজ এবং মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মো. শফিকুল ইসলাম দুজন সম্পর্কে মামা ভাগ্নে। কিন্তু দুজনই আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১০ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একজন আরেকজনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ফলে ওয়ার্ডে চলছে মুখরোচক আলোচনা।

তাদের আরো এক পরিচয় সমাদৃত সর্বমহলে। এর মধ্যে শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এর আপন ছোট ভাই এবং তারেক উদ্দিন তাজ আপন ভাগ্নে। শফিক ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে এবং তাজ ঠেলা গাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দুজনেরই দাবি প্রতীক পেয়ে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের আশীর্বাদ নিয়েই তারা শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচারণা।

একজন ভাই এবং একজন ভাগ্নে। এ অবস্থায় দুজনকে আশীর্বাদ করলেও সমর্থনের বিষয়ে প্রকাশ্য কোন ঘোষণা না থাকায় এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। নির্বাচনের এ লড়াইয়ে তিনি ভাইয়ের পক্ষ নিবেন না ভাগ্নের পক্ষ নিবেন এ নিয়েও চলছে কানাঘুষা।

তবে নির্বাচনের এ লড়াইয়ে মিসবাহ সিরাজ রক্তের সম্পর্ক বজায় রেখে ভাইয়ের পক্ষেই আছেন বলে জানিয়েছেন ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আশীর্বাদ দেওয়ার মানে এই না যে তাকে সমর্থন জানানো। তাজ আমাদের ভাগ্নে, সে হিসেবে আশীর্বাদ নেওয়া তার অধিকার। কিন্তু উনি সমর্থনের ক্ষেত্রে অবশ্যই রক্তের সম্পর্ককেই প্রাধান্য দিয়েছেন। উনি আমাকেই সমর্থন করেছেন। তাছাড়া যেহেতু উনি আমার আপন ভাই সুতরাং উনার অনুমতি নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।

অপরদিকে ঠেলা গাড়ি প্রতীকের প্রার্থী তারেক উদ্দিন তাজ বলছেন মিসবাহ সিরাজের সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমার মামা শফিকুল ইসলাম একাধিকবার নির্বাচন করেও জয়ী হতে পারেননি। কিন্তু আমি গত নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২য় হয়েছিলাম। তাই এবার আমার মামা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে আপন মামা ভাগ্নে হয়েও দুজন দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়াকে দুজনেই গণতান্ত্রিক অধিকার মনে করলেও বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। তবে যেহেতু দুজন আপন মামা ভাগ্নে সে ক্ষেত্রে কোন একজন অপরজনকে ছাড় দেওয়া উচিত ছিলো বলেও মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

তবে মামা ভাগ্নে হয়েও কেউ কাউকে ছাড় না দেওয়ার বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নয় দুজনই। বরং নির্বাচনে অংশ নেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার বলে উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাজ আমার আপন ভাগ্নে। সে আগে থেকেই বলে আসছে নির্বাচনে অংশ নিবে না। কিন্তু এখন সে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাই আমরা পারিবারিকভাবে তার সাথে কথা বলার পরও কোন কাজ হয়নি। সে ভাগ্নে হয়েও যেহেতু মামাকে সম্মান করেনি সুতরাং এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। সে নির্বাচন করতেই পারে। তবে শামীমাবাদ এলাকার লোকজন একটি মিটিং করে আমাকে কাউন্সিলর পদে একক সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়াও কানিশাইল এলাকার লোকজনের সমর্থনও আমার পক্ষে আছে। তাই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’

এদিকে তাজ বলছে ভিন্ন কথা।

তিনি বলছেন, আমি দীর্ঘ দিন আগে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাছাড়া আমি এর আগের বারও যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২য় হয়েছিলাম সুতরাং এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

তবে মামা ভাগ্নে যাই বলেন না কেন জনগণ চোখ কিন্তু ফলাফলের দিকে। তবে মামা ভাগ্নে এক সাথে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে কোন একজন নির্বাচনে অংশ নিলে জয় অনেকাংশে সহজ হতো বলে মনে করছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

(আজকের সিলেট/২০ জুলাই/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন