৬ জুলাই ২০১৮


দূর্ভোগের নাম বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়ক

শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : সিলেট-বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি। কবে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজ শেষ হবে, তা কেউ সঠিক করে জানাতে পারেনি। এখনো সড়কের ৩০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। তাছাড়া শুরু থেকে সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এলাকাবাসী।

বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশল অফিসের অধীন এ সড়কের শেষ চার কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। গত ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাত্র ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে। পাঁচ মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় সড়ক ব্যবহারকারী দুই উপজেলার লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কটি সংস্কারের জন্য মেসার্স মুহিবুর রহমান নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়। সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। স্থানীয়রা জানান, শুরু থেকেই সংস্কার কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করেছে। এ ছাড়া সংস্কার কাজে বালুর বদলে মাটি ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানানোর পর কয়েকদিন কাজ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রকৌশল অফিস। তবে ফের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বন্ধ হয়নি।

তিলপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, সংস্কার কাজে বালু দিয়ে মেকাডম করার কথা। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাদা দিয়ে মেকাডম করছে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি জানালে সরেজমিন এর সত্যতা পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি উপজেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জানালেও সংস্কার কাজে অনিয়ম বন্ধ হয়নি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুহিবুর রহমানের পরিচালক মুহিবুর রহমান কোকিল বলেন, সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও আমি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সংশ্নিষ্টদের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছি। বাড়তি সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে পারব। অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সড়ক সংস্কারে মাটির কোনো কাজ নেই। তবে বালুর বদলে ভুল করে আমার প্রতিষ্ঠানের কেউ মাটি দিয়ে থাকতে পারে। এমনটি আর আগামীতে হবে না।’

উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী বলেন, কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সংস্কার কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। সে কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়কের অল্প অংশে বালুর পরিবর্তে মাটি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে মাটি সরিয়ে বালু দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

(আজকের সিলেট/৬ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন