৪ জুলাই ২০১৮


‘ধলাই সেতু’ বাচাঁতে সীমান্তবাসীর আকুতি

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : কোম্পানীগঞ্জের ‘ধলাই সেতু’ সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য্য অবলোকন ও উৎমা ছড়া পর্যটন স্পটে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। সেতুর পিলার ঘেষে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আজ হুমকির মুখে পড়েছে ধলাই সেতুটি।

খনিজ সম্পদে ভরপুর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেষা তিনটি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের উপজেলার সঙ্গে বন্ধন রচনা করেছে ধলাই সেতু। দুই সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেই সেতুর পিলার ঘেষে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এই পরিস্থিতিতে সেতু রক্ষায় প্রশাসনের কাছে জোর আকুতি জানাচ্ছেন সীমান্তবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান জানান, ধলাই সেতুর পিলার ঘেঁষে লিস্টার মেশিন (এক ধরনের যান্ত্রিক মেশিন) দিয়ে বালু তুলছে একটি অসাধুচক্র। পুরো এলাকা ধ্বংস করে এখন সেতুর একেবারেই নিচে মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করছে। আর কিছুদিন এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে সেতু ভেঙ্গে পড়তে পারে।

কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আরাফাত আলী জানান, একটি প্রভাবশালী মহল পেশী শক্তির দাপটে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছে। আমরা বাধাঁ দিলেও কাজ হচ্ছে না।

৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের ধলাই নদের উভয় তীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০০৩ সালে ধলাই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

ধলাই সেতু নির্মিত হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে। পাশাপাশি দেশের সর্ব বৃহৎ ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহন সহজতর হয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধলাই সেতুর দু’পাশে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সব ধরণের বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লাল নিশানা গেড়ে সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান করছি। সেতুটি রক্ষা যা যা করার আমরা তাই করব।

(আজকের সিলেট/৪ জুলাই/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন