৮ জুন ২০১৮
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : পারভীন আক্তার আত্মপ্রত্যয়ী, শিক্ষিত ও কর্মদক্ষ এক নারী। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের বাসিন্দা। জীবন- জীবিকার তাগিদে তার স্বামী প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর তিনি হাল ধরেন সংসারের। বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আম, লিচু, কাঠাল,আনারস ও লেবু চাষাবাদের পাশাপাশী দেশীয় জাতের লটকন বাগান করে এলাকায় তিনি চমক সৃষ্টি করেছেন।
২০০৩ সালে নরসিংদীর এক আত্মীয় বাড়ি হতে চারা এনে বসত টিলার নিকটে প্রায় ৪৫ শতক ভূমিতে লকটকন চাষ করে এখন তিনি স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেছেন। কয়েক বছর ধরে তাঁর লটকন বাগানে ফলন ধরতে শুরু করেছে। এ বছর তার বাগানে লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
সরজমিন বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, চারি দিকে ছোট-বড় টিলা, উচুঁ নিচু সমতল ভূমি আর সরো রাস্তার পাশে অবস্থিত পারভীন আক্তারের লটকনের বাগান। তার বাগনের নিকট দিয়ে আসা যাওয়ার সময় প্রতিনিয়ত আগন্তকদের মুগ্ধ করে। সারি সারি গাছে লটকে আছে থুমকা থুকমা লটকন।
এ বছর বাগানে লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছেই গোড়া থেকে প্রতিটি শাখা প্রশাখা লটকনে পরিপূর্ণ। কিছু গাছের লটকন এখন পাকা শুরু করেছে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে বাগানে লটকন আসা শুরু করে। পরিপক্ক হয়ে লটকন পাকা শুরু হয় জৈষ্ট মাসের শেষের দিকে।
লটকন চাষী পারভীন আক্তার বলেন, আমার বাগানের লটকন আকারে বেশ বড় ও খেতেও সু-স্বাধু হওয়ায় এলাকায় বেশ চাহিদা রয়েছে। আর এ জন্য লটকন বিক্রি করতে বাজারে নিতে হয়না। পাইকারী ক্রেতারা গাছে ফলন আসার পর থেকে বাগান ক্রয় করতে যোগাযোগ করেন। ফলে বেঁচে যায় পরিবহন খরচ। লটকন চাষে কম খরচে অধিক লাভ থাকায় আশপাশের কৃষক-কৃষাণীরাও এখন বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় লটকন চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।
এছাড়া বৃহত্তর টেংরাটিলা এলাকা টিলা রকম ভূমি হওয়ায় এখানে আম, কাঠাল, লিচু আনারস চাষের পাশাপাশী বর্তমানে লটকন চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন কৃষকরা। এ বছর বাগানে ভালো ফলন হওয়ায় অন্তত লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা হাফছা আক্তার লিপা জানান- পারভীন আক্তার লটকন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেছেন। তার বাগানে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। তার বাগানের লটক স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য এলাকায় বিক্রি করা যাবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন- উপজেলার টেংরাটিলা ও আশাপশের এলাকার মাটি লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। লাভজনক এ ফল চাষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকে।
(আজকের সিলেট/৮ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)