৭ জুন ২০১৮


দেশী কাপড়ে আকৃষ্ট হচ্ছেন ক্রেতারা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর বিপণিবিতানগুলোয় ঈদের কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে। নানা শ্রেণীর মানুষ প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করছেন। বিশেষ করে এবার দেশী ব্র্যান্ডের কাপড়গুলোর প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন দেশীয় ফ্যাশন হাউজ ঘুরে দেখা যায়, দেশি ব্র্যান্ডশপগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। রুচিশীল ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে দেশী ব্র্যান্ডগুলো। দাম একটু বেশি মনে হলেও মানসম্মত ও রুচিশীল কাপড় তৈরি ও বিক্রির ব্যাপারে আপোষহীন দেশী ফ্যাশন হাউজগুলো।

বিক্রেতারা জানান, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার ক্রেতা একটু বেশি মনে হচ্ছে। দেশী কাপড়ের অভিনব ডিজাইন ও মানের কারণে ক্রেতা সমাগম হচ্ছে ভালোই।

এদিকে ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশীয় কাপড়ের সমাহারে সাজানো হয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। নগরীর আড়ং, প্রাইড লিমিটেড, স্লোগান, অঞ্জনস, বিশ্বরঙ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেছে দেশীয় কাপড়ের সমাহার। ঈদকে সামনে নিত্যনতুন নকশা ও ডিজাইনে সাজিয়েছেন তাদের কাপড়ের সমাহার।

নগরীর কুমারপাড়াস্থ প্রাইড লিমিটেড এর ব্যবস্থাপক আহমদ কায়কোবাদ জানান, গতবারের মতই চলছে আমাদের ব্যবসা। রমজানের প্রথম দিকে কিছুটা ভিড় কম থাকলেও এখন লোকজন আসতে শুরু করেছেন। ঈদের নতুন কালেকশনে সমৃদ্ধ আমাদের প্রাইড। দেশি কাপড়ে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট ক্রেতা থাকেন যারা শুধু আমাদের দোকান থেকেই বাজার করেন।

দেশীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা আমাদের পণ্য ডিজাইন করি। এবারের ঈদে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমকে নিয়ে বিশেষ টি-শার্ট করা হয়েছে। তাছাড়া শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘অবনী বাড়ি আছো?’ এর দ্বিতীয় সংস্করণ ঈদ উপলক্ষে আমরা বের করেছি। নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু ক্রেতা আমাদের রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে আমাদের এই ‘স্লোগান’ আরও প্রচার ও প্রসারিত হচ্ছে। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এমনটি জানাচ্ছিলেন দেশী ব্র্যান্ড ‘স্লোগান’ এর স্বত্বাধিকারী উজ্জ্বল চক্রবর্তী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এক্সক্লুসিভ আইটেম হচ্ছে টি-শার্ট যা সারা বছরই ভালো চলে। প্রতিবারের মত রমজানের শেষের দিকে আরও ভালো বিক্রি হবে। গোলগলা টি শার্টের মূল্য ২৫০-৪২০ টাকা, কলার ট-শার্ট ৪৫০-৫৮০ টাকা, পাঞ্জাবি ৯৫০-১২০০ টাকা, জিন্স ও গ্যাবাডিন প্যান্ট ৭৮০-১১০০ টাকায় আমরা বিক্রি করে থাকি।

বেসরকারি কলেজের শিক্ষক আমিনা আইরিন বলেন, ঈদের কেনাকাটা দেশীয় কাপড় আমার পছন্দ। দেশীয় কাপড়ে ডিজাইন ও নকশায় থাকে অভিনবত্ব। বেশিরভাগ দোকান শুধু ইন্ডিয়ান কাপড়ের দখলে। এর মধ্য দিয়ে আমরা হারিয়ে যেতে বসেছি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে। দেশী ফ্যাশন হাউজগুলোর সুবাদে আমরা এখনো দেশীয় কাপড় পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। ভিনদেশী কাপড় পরিহার করে আমাদের উচিত দেশের তৈরি কাপড় পড়া। আড়ং এর এবারের কালেকশন আমার খুবই ভালো লেগেছে।

ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস এবারের এক্সক্লুসিভ কালেকশন হচ্ছে কাপল সেট, যা ৪ জনের পরিবারে জন্য একই কালার ও ডিজাইনের কাপড়। তাছাড়া তাদের রাউন্ড ড্রেসের চাহিদাও ক্রেতাদের কাছে বেশি।

বারুতখানাস্থ ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনের ব্যবস্থাপক মো. নাদিম খন্দকার বলেন, ২০ রোজার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা সমাগম হয়েছে। ২০ রোজার পর থেকে ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে এ ধারাটা আরও বাড়বে। কাপল সেটের এর দাম ৭-৮ হাজার টাকা। তাছাড়া আমাদের রাউন্ড স্টাইলের ড্রেসটিও এবার বেশি যাচ্ছে। এর দাম পড়বে ৪৫০০ টাকা থেকে ৭৫০০ টাকা। শাড়ীর মধ্যে বেশি চলছে হাফ সিল্ক। এর দাম ৪০০০-৮০০০ টাকা। ১৩০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকার পাঞ্জাবিও বিক্রি করছি আমরা।

তিনি আরও জানান, এছাড়া আমরা জুতা, বেডশিট, পর্দা, জুয়েলারি, গৃহসজ্জার সামগ্রীও বিক্রি করে থাকি। আর এর প্রত্যেকটিতে আছে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়া। বর্তমানে সবাই ওয়েস্টার্ন কালচারের ড্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। আমরা ওয়েস্টার্ন সংস্কৃতির ড্রেসের মধ্যে দেশীয় ছোঁয়া দিয়ে তা ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরছি। যেকোনো উৎসব উপলক্ষে আমরা ড্রেস তৈরি করে থাকি। যেমন- ঈদ, পূজা, ক্রিসমাস, পহেলা বৈশাখী, ভ্যালেন্টাইন্স ডে সকল উৎসবকে আমরা সমান গুরুত্ব দেই। তাছাড়া বিকাশে আমাদের পেমেন্ট করলে ক্রেতারা পাচ্ছেন ২০ পার্সেন্ট ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক এবং ৮টি ব্যাংকের কার্ড হোল্ডাররা কার্ডে পেমেন্ট করলে পাচ্ছেন ১০ পারসেন্ট ছাড়।

‘এক পিস’ হচ্ছে ফ্যাশন হাউজ বিশ্বরঙের এবারের ঈদের বিশেষ আকর্ষণ। এই প্রোডাক্টগুলো একটি করেই বানানো এবং তা একটি শাখায় দেয়া হয়েছে। এক শাখার ওয়ান পিস আইটেম আবার অন্য শাখায় পাওয়া যাবে না।

অন্যান্য দোকানের মত উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও আমাদের ব্যবসা গতবারের চেয়ে ভালো চলছে। দিন ও রাতে আমাদের ক্রেতা থাকেন। বিশেষ করে দিনের বেলা ইফতারের আগে একটু বেশিই লোকজন আসেন। ২০ রমজানের পর থেকে বেশিরভাগ মানুষ কেনাকাটা করতে শুরু করেন। এখন ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বেশি। মাস শেষে এখনো বেতন না পাওয়ায় অনেকে কিছুটা দেরিতে ঈদের বাজার করছেন। এমনটি বলছিলেন বিশ্বরঙ সিলেট শাখার ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ দোকানে ভারতীয় কাপড়ের সয়লাব এবং দাম কম থাকায় এক শ্রেণির ক্রেতা শুধু ঐ দোকানগুলোতেই ভিড় করেন। অনেকে মানও যাচাই করেন না। কিন্তু আমাদের বিশ্বরঙ মানের ব্যাপারে আপোষহীন। আমরা মানসম্মত দেশীয় জিনিষ সকলের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করি। আমরা বুটিকস দিয়ে নকশা করা প্রোডাক্ট বিক্রি করি যার মান আলাদা। ইদানিং অনলাইনে আমাদের প্রচুর অর্ডার যাচ্ছে। বিভিন্ন কার্ড হোল্ডারদের জন্য রয়েছে আমাদের বিশেষ ছাড়। দেশীয় পণ্য আমরা আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তুলি। আমাদের পরিকল্পনা থাকে সাধ্যের মধ্যে সবার কাছে দেশীয় পণ্য পৌঁছে দেয়া।

তিনি জানান, শাড়ির মধ্যে রেশমি সিল্ক বা হাফ সিল্ক বা কটন শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। এক্সক্লুসিভ কালেকশন ‘এক পিস’ এর দাম পড়বে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাছাড়া বলাকা সিল্ক, ইন্ডি সিল্ক, মসলিন শাড়িও ভালো চলে। তাতের মধ্যে সুতি শাড়ি আমরা বিক্রি করি যার মূল্য ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। সিল্ক মসলিন ও কাতান শাড়ি ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। সুতি স্ক্রিন প্রিন্ট ও কাজ করা শাড়ি ১৫০০-৪০০০ টাকা।

হাবিব বলেন, মুরুব্বীদের জন্য আমাদের রয়েছে ‘শ্রদ্ধা’ নামের একটি ব্র্যান্ড। পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়া রয়েছে এই ব্র্যান্ডে যা মুরুব্বীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বানানো। ‘ফেইসরঙ’ নামের আরও একটি ব্র্যান্ড আছে আমাদের। সেখানে ওয়েস্টার্ন কালচারের ধাঁচে দেশীয় কাপড় ডিজাইন করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম যারা ওয়েস্টার্ন কালচার পছন্দ করে বেশি তাদের জন্যই এই ব্র্যান্ড।

আমাদের ড্রেসের কালেকশনে যোগ হয়েছে ফিক্সড কাটিং এর মত স্টাইল। রেডিমেড ড্রেস, টু পিস, থ্রি পিসের দাম পড়ে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, এক পিসের দাম ১২০০-৫০০০ টাকা। তাছাড়া লং লেংথ, স্কার্ট ও টপস আমরা বিক্রি করি। আমাদের পাঞ্জাবিতে আছে অভিনব ডিজাইন। এটি আবার দুই ধরনের। ঈদের সকালের কথা চিন্তা করে লাইট কালার ও ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও বিকালের কথা মাথায় রেখে একটু গর্জিয়াস ও কড়া কালারের পাঞ্জাবি। এগুলোর দাম পড়ে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা।

(আজকের সিলেট/৭ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন