৭ জুন ২০১৮


রাস্তা সংস্কারে বালির বদলে মাটি!

শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : বিয়ানীবাজারের লাউতায় বালি না দিয়ে মাটি দিয়ে রাস্তার কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই অনিয়ম করছে বলে জানা যায়।

এছাড়াও রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের কংক্রিট ও মালামাল, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলাকাবাসী বারবার এই অভিযোগে প্রতিবাদ করলেও কোন ব্যবস্থা নেয় নি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর নাওয়ালা গ্রামের দুই কিলোমিটার

পাকাকরণের কাজ চলছে। কিন্তু রাস্তার কাজে বালির বদলে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে খনন করে মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে রাস্তা। এছাড়াও নিম্নমানের ইট ভেঙ্গে মিশ্রণ করে রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে।

ঠিকাদারের এমন কাজে বারবার এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও উল্টো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাছাড়া কাজের শিডিউল দেখতে চাইলে তাদের তা দেখানো হচ্ছে না।

যার ফলে অনেকটা অন্ধকারে থাকছেন এলাকাবাসী। আর তাদের অন্ধকারে রেখেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাদীফ এন্টারপ্রাইজ।

এবিষয়ে এলাকার মুরব্বী মস্তকিন আলী বলেন, নতুন নির্মাণাধীন রাস্তাটিতে কংক্রিটের সাথে বালু না দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাটি দিয়ে সংস্কার কাজ করছে। আমরা তাদের কাছে রাস্তায় বালির বদলে মাটি কেন দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে, তারা বলে ঠিকাদারের নির্দেশে এখানে মাটি দেয়া হচ্ছে । আর এইটা নিয়ে বেশি কথা বললে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে আমাদের ।

অপর মুরুব্বী মুক্তিযোদ্ধা তাহির আলী বলেন, রাস্তাটিতে নিম্ন মানের কাজ হচ্ছে। নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে রাস্তায় দেয়া হচ্ছে। এর ফলে কয়েকদিন পর নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করবে। আমরা রাস্তাটিতে সঠিক কাজ চাই।

এ বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন জানান, রাস্তাটিতে সঠিক কাজ হচ্ছে জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এই রাস্তা নিয়ে এলাকায় অনেক কোন্দল রয়েছে। অনেক কষ্টের বিনিময় রাস্তাটিতে কাজ শুরু করিয়েছি আমরা ।

এব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রামেন্দ্র হোম চৌধুরী বলেন, আমি রাস্তাটি নিজে পরিদর্শন করেছি এখানে সুষ্ঠু কাজ হচ্ছে। রাস্তার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।

নদীর তীর থেকে মাটি রাস্তায় দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কাউকে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে রাস্তায় দেয়ার অনুমতি দেইনি।

এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাদীফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আওয়ামী লীগ নেতা এমাদ উদ্দিনের সাথে যোগযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

(আজকের সিলেট/৭ জুন/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন