৬ জুন ২০১৮


সুনামগঞ্জে ছাত্রদলের কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ১০ সদস্য বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার কয়েকঘণ্টার পরই সমালোচনার মুখে পড়েছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। বিবাহিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি জেলা কমিটির দুইজন যুগ্ম সম্পাদক কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

যুগ্ম সম্পাদক শাহ মো. ইউসুফ হক ফরহাদ ‘শাহ ফরহাদ’ নামের তার নিজের ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘ভিনগ্রহ থেকে তুলে এনে জোর জবরদস্তি করে এদের ছাত্রদলের নেতা বানানো হলো কার ইশারায়!! এত শ্রম ঘাম কোথায় দিলাম !! কি জন্য দিলাম!!! জীবনের এতটা দিন ব্যয় করলাম কোন আশায় !! প্রতিদিন ১৯ ঘণ্টা সময় দলের কাজে ব্যস্ত থেকেছি। যারা জীবনে ১৯ ঘণ্টাও রাজনীতি করেনি আজ তারা এত বড় বড় পোস্টের অধিকারী!!!! এই কি শ্রম ঘামের প্রতিদান!!! দেখা যাক সামনের আন্দোলন সংগ্রামে রাস্তায় দাঁড়াতে পারে কি না।’

আরেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান সৌরভ ফেইসবুকে লিখেছেন,‘ছি ছি ছি! কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা!

তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আরো লিখেন, ‘আমি মো. আজিজুর রহমান সৌরভ সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদেরকে সুনামগঞ্জ এসে আন্দোলন করার আমন্ত্রণ রইল। খোদা হাফেজ।’

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন ছাত্রদলের সক্রিয় নেতৃবৃন্দ।

এই কমিটির সিংহভাগ সদস্য জেলা সদরের বাহিরের ও বিবাহিত। সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত, সহ-সভাপতি তিনজনই বিবাহিত। যারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না ও অনেকের ছাত্রত্ব নেই। যার জন্য এই কমিটিকে মেনে নিতে পারছে না সক্রিয় ও সরকার দ্বারা নির্যাতিত কর্মীরা।

সৌরভের পোস্টে মন্তব্য করে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সামরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘যেদিন ম্যাডামকে জেলে নেওয়া হয়েছিল, ওই দিন সোহাগ তার বউকে নিয়া হানিমুনও গেছে। আর আজকে সে সাধারণ সম্পাদক।’

ছাত্রদল নেতা রকি আহমদ ও চৌধুরী আতাব কবির হাসান লিখেছেন, ‘ছি ছি ছি! ধিক্কার ও নিন্দা জানাই কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দকে। টাকা খেয়ে দল গঠন করার জন্য দলের এই অবস্থা। দলের এই নেতৃবৃন্দের জন্য ম্যাডাম আজ জেলে।’

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান সৌরভ বলেন, ‘এই কমিটি অগঠনতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছে। ১০ সদস্যের জেলা কমিটিতে ৬ জনই বিবাহিত। কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহ সভাপতি লিপসন খান ও ফয়েজ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক শাহ ইউসুফ ফরহাদ ও সাদিকুর রহমান স্বপন বিবাহিত। ’

যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ ফরহাদ বলেন, ‘ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে অবিবাহিত হতে হবে এমন কোন বিধান নেই। ৩ সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও বিবাহিত।’

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির সোহাগ বলেন, ‘আমি ২০০৪ সাল থেকে ছাত্রদলের কর্মী। জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুলের সঙ্গেই ছাত্রদল করেছি। ২০১১ সালে যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে আলাদা গ্রুপ করেছিলাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমার বাবা মারা গিয়েছেন। গতমাসের ৭ তারিখে তারাহুড়ো করে আমাকে বিয়ে করানো হয়েছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৬ মাস আগে জেলে গিয়েছেন। তাহলে তিনি জেলে যাওয়ার দিন আমি বউ নিয়ে হানিমুনে গেলাম কিভাবে?’

(আজকের সিলেট/৬ জুন/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন