৪ জুন ২০১৮


এক কাতারে ধনী-গরিবের ইফতার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইফতারের তখনো আধা ঘন্টা বাকি। তবে এর আগে থেকেই টুকেন নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন আগন্তুকরা। উদ্দেশ্য, সবাই মিলে একসাথে ইফতার করা। এই লাইনে যেমন রয়েছেন ধনবানরা; ঠিক তেমনি আছেন খেটে খাওয়া দিনমজুরেরা।

শুধু তাই নয়; ইফতারের লাইনে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাজার জিয়ারত করতে আসা ভক্তরাও। সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গনের চিত্র এটি।

পবিত্র রমজান মাসে প্রতিদিনই মাজার প্রাঙ্গনে ইফতারের ব্যবস্থা করে মাজার কর্তৃপক্ষ। এক কাতারে বসে সেখানে ইফতার করেন ধনী-গরিবেরা। এতে অংশ নেন চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, পুলিশ, দিনমজুর, ভিক্ষুক, পথচারী, নারী, শিশুসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

প্রতিদিন তিনশতাধিক রোজাদার এখানে ইফতার করেন। তবে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এলে তা দুই গুণ বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাজারের পূর্ব পাশের দোতলা বিল্ডিংয়ের কয়েকশ লোক ইফতারের জন্য অপেক্ষমাণ। টুকেন নিয়ে প্রবেশ করছেন ভবনে। তাদের মধ্যে পুরুষের উপরের তলায় আর মহিলারা নিচ তলায় গিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়ছেন। তাদের সামনে প্লেটে সাজানো রয়েছে ভূনা খিঁচুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, খেজুর আর জিলাপি।

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদিম ও সেক্রেটারি সামুরান মাহমুদ খান জানান, ‘এখানে প্রতিদিন তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ লোকের ইফতারের অয়োজন করা হয়। ইফতারে তালিকায় থাকে খেঁজুর, ভূনা খিঁচুড়ি, পিঁয়াজু, ছোলা ও জিলাপী।’

মাজারে বিভিন্ন সময় মানুষ টাকা-পয়সা দান করেন। এ টাকা থেকেই ইফতারের আয়োজন করা হয়। আবার কখনো কখনো ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেন বলেও জানান তিনি।

মাজারের একজন ভক্ত করিম মিয়া জানান, ‘রোজার মাসে এখানে প্রায় ইফতার করি। এখানে ইফতারের আগে মোনাজাত করা হয়। এক সঙ্গে অসংখ্য মানুষের সাথে বসে ইফতার করতে অনেক ভালো লাগে।’

রিক্সা চালক তাহির মিয়া জানান, ‘আগে আয় রোজগার ভালা অইলেও রোজা আইছে থাকি রুজি কমে গেছে, ওতার লাগি মাজারো ইসতার করি আইয়া।’

সিলেট বেড়াতে আসা ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রাকিব জানান, ‘সারাদিন মাজারে সময় কাটিয়ে সন্ধ্যাবেলায় মাজারেই ইফতার করতে বসে পড়েছেন তিনি। অসংখ্য মানুষের সাথে একসাথে বসে ইফতার করায় তিনি আনন্দিত।’

 

(আজকের সিলেট/৪ জুন/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন