২০ মে ২০১৮


জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস

শেয়ার করুন

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বিশেষ প্রকার দয়া করার জন্য বিশেষ কিছু সময় নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রমজান মাস। আজ রবিবার রমজান রহমতের ঝর্ণাধারার তৃতীয় দিন। কোরআনে কারিম ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নায় এ মাসের যেসব ফজিলত সাব্যস্ত হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এক. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসের আগমনে সাহাবায়ে কেরামকে সুসংবাদ জানাতেন, আমলের জন্য প্রস্তুত হতে বলতেন। তিনি বলতেন, ‘তোমাদের কাছে একটি মাস এসেছেÑ আল্লাহ তায়ালা যার সাওম ফরজ করেছেন, এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে বেঁধে ফেলা হয়। এতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে মাহরুম হলো, সে যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।’ (মুসনাদে আহমাদ)। দুই. এ মাস কোরআন ও আল্লাহর অন্য সব কিতাব নাজিল হওয়ার মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সহিফা নাজিল হয়েছে রমজানের প্রথম রাতে, তাওরাত নাজিল হয়েছে রমজানের ষষ্ঠ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, ইঞ্জিল নাজিল হয়েছে রমজানের ১৩তম দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, জাবুর নাজিল হয়েছে ১৮তম দিবস অতিবাহিত হওয়ার পর, আর কোরআন নাজিল হয়েছে রমজানের ২৪তম দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। (মু’জামুল কাবির লিত তাবরানি)। তিন. এ মাস বিজয়ের মাস। এ মাসেই ইসলামের ইতিহাসে যুগান্তকারী সব বিজয় অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেমনÑ বদরের যুদ্ধ, মক্কা বিজয়, স্পেন বিজয়, বেলগ্রেড বিজয় ইত্যাদি। চার. রমজান মাস তারাবি ও তাহাজ্জুদের মাস। যার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ ঈমান ও সওয়াবের আশা নিয়ে রমজানের রাত্রিগুলোয় কিয়াম (তারাবি বা তাহাজ্জুদ আদায়) করবে, তার পূর্ববর্তী গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (বোখারি, মুসলিম)। পাঁচ. গোনাহ ক্ষমা পাওয়ার মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক, যে রমজান মাসে উপনীত হওয়ার পরও তার গোনাহগুলো ক্ষমা করে নিতে পারল না। ছয়. রমজান লাইলাতুল কদরের মাস। কোরআনে কারিমে আল্লাহ তায়ালা এর ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল করেছেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বোখারি, মুসলিম)। সাত. রমজান জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আর আল্লাহ তায়ালার রয়েছে জাহান্নাম থেকে কিছু মুক্ত দাস, যাদের তিনি রমজানের প্রতি রাতেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করে থাকেন। (তিরমিযি, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযাইমাহ)। আট. রমজান দান ও ইহসানের মাস। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে বড় দানবীর। আর রমজান যখন আসত, তখন তিনি হয়ে যেতেন আরও বেশি দানবীর, যখন জিবরাইল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি হয়ে যেতেন প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল। নয়. এ মাস দোয়া কবুলের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সাওম পালনকারীর দোয়া ফেরত দেয়া হয় না।’ দশ. এ মাস বহুগুণ বর্ধিত সওয়াব প্রাপ্তির মাস। যেমনÑ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানে একটি ওমরা আমার (রাসুলের) সঙ্গে করার সমতুল্য।’ সুতরাং আসুন, আমরা এ ফজিলতপূর্ণ মাসটির যথাযথ গুরুত্ব উপলব্ধি করি, এ মাসের ফজিলতের ওপর ঈমান রেখে, যথাযথ সওয়াবের আশা করে সাওম ও অন্যান্য ইবাদত পালন করি, আমাদের নিজেদের আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করি।

শেয়ার করুন