২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খোলা তেলের দোকানে লাগা আগুন থেকে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পাশের আরেকটি দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় সামনে থাকা তেলবাহী ট্র্যাংক লরিতে আগুন লেগে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সোমবার রাতে নগরীর বাবনা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিটের কর্মীরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার দিকে আগুন লাগে। এ সময় দোকানে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তে দোকানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে। আগুন ছড়াতে থাকে আশপাশের দোকানগুলোতে। তখন আশপাশের বাসিন্দা ও দোকানীরা আতঙ্কিত হয়ে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিলেট নগরের তালতলা থেকে ৪টি এবং দক্ষিণ সুরমার ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। তবে কৌতূহলী জনতা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ব্যাঘাত ঘটে। পরে পুলিশ জনতাকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। আগুণের ভয়াবহতায় সহযোগিতা চেয়ে সেনানিবাস ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকেও আহ্বান করা হয়। সবকটি ইউনিটের যৌথ চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক (চ.দা.) সানাউল হক বলেন, ৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। একটি এলপিজি গ্যাসের দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে পাশে আরেকটি দোকান পুড়ে যায়। এ সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্র্যাংক লরিতেও আগুন লাগে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়ের কারণ ছিল পাশেই যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা কোম্পানির ডিপো থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। যে কারণে ৭টি ইউনিট কাজ করার পরও সেনানীবাসের ইউনিটকে ডাকা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় তাদের পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনো নিরুপন করা যায়নি।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সার্বিক প্রচেষ্টায় আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।