২ মে ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র শবে বরাত। ইবাদত-বান্দেগীর মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের পবিত্র এই রাতটি পালন করেন মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় আজ নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করেছেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানগণ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন।
এই উপলক্ষে সিলেটসহ সারাদেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানগণ কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা নফল রোজাও পালন করেছেন।
বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে-মসজিদে সারারাত চলে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী ও মোনাজাত। রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগী, জিকির ছাড়াও এই পবিত্র রাতে মুসলমানগণ মৃত পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করছেন। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতেও মুসল্লীদের উপচেপড়া ভীড়।
এদিকে, প্রতিবছরের মতো এবারও শবে বরাতে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নেমেছিলো সিলেটে অবস্থিত দুই ওলির মাজারে। সন্ধ্যা থেকে নগরের দরগাহ গেইট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারে ভিড় করেন মুসল্লীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে এই দুই মাজারে ভিড়।
শাহজালাল মাজারে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাজার প্রাঙ্গনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তবু দল বেঁধে মাজারে প্রবেশ করছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। কেউ কেউ মাজার মসজিদে ইবাদত করছেন, কেউবা মাজার জিয়ারত ও পাশ্ববর্তী কবরস্থান জিয়ারত করছেন। মাজার এলাকায় ঘুরাঘুরিও করছেন অনেকে। মাজার প্রাঙ্গণে ছাপিয়ে দরগাহ গেইটের পুরো সড়কজুড়েই ভিড় লেগেছে মুসল্লিদের। মাজার প্রাঙ্গণে মোমবাতি, আগরবাতি হালুয়াসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
একই অবস্থা খাদিমের শাহপরান মাজারেও। সেখানেও উপচেপড়া ভিড়। সিলেটের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ জড়ো হয়েছেন এই দুই মাজারে। এক মাজার থেকে আরেক মাজারে যাচ্ছেন অনেকে। সিলেটের বাইরে থেকেও অনেকে এসেছেন মাজার জিয়ারতে।
শবে বরাতের রাতকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারসহ নগরের প্রায় অর্ধশতাধিক মাজারে ভিক্ষুকদের উপস্থিতি ছিলো কয়েকগুণ বেশী। বিভিন্ন জেলা থেকে ভিক্ষুকরা অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে এসে ভিড় জমান। বিভিন্ন মসজিদ ও মাজারের পাশে তাদের ভিক্ষার ঝুলি বিছিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। মাজারগুলোতে আসা লোকজনও নিজের সামর্থ অনুযায়ী অর্থকরী দান করেন।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.), তার ভাগ্নে হযরত শাহপরান (রহ.) ও সিলেটের প্রথম মুসলমান হযরত বোরহান উদ্দিন (রহ.) সহ অন্যান্য ওলি-আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করতে মাজার ভক্ত লোকজন এই মহিমান্বিত রাত উপলক্ষে সিলেটে এসেছেন।
ফলে মাজার এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্য ও ট্রাফিক পুলিশ মানুষের চলাচলকে নির্বিঘ্ন করতে হিমশিম খাচ্ছে। মাজারে আসা লোকজনের যানবাহনে ওই এলাকাগুলোতে যানজট লেগে গেছে।
এছাড়া শবে বরাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া তথা প্রার্থনার জন্য মুসলিম ধর্মাবলম্বিরা সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন মসজিদে ভিড় করেছেন থাকেন। অনেকে আবার মাজার ও কবরস্থানে যান মোনাজাত করার জন্য। আত্মীয়-স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মুক্তির জন্য কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন স্বজনরা।
(আজকের সিলেট/২ মে/ডি/এমকে/ঘ.)