২৮ এপ্রিল ২০১৮
অতিথি প্রতিবেদক : দেড় কোটি টাকা লেনদেনের জের ধরেই খুন হন সিলেটের বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী শহিব উদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার জন্য জাকির হোসেন গংদের পর্যায়ক্রমে দেড় কোটি টাকা দিয়েছিলেন শহিব উদ্দিন। এরই জের ধরে তাকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়।
শনিবার ভোরে হত্যার ঘটনায় জড়িত জাকির হোসেনকে বিয়ানীবাজারের বৈরাগিবাজার এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। আটককালে মরদেহ বহন করা প্রাইভেটকার রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। আটক জাকির হোসেন সিলেটের আখালিঘাট এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. শাহজালাল মুন্সি বলেন, খুনের ঘটনার পর জাকিরকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা অবস্থায় মরদেহ বহনকারী গাড়িটি জব্দ করা হয়। আটকের পর থানায় এনে জাকিরকে সাধারণভাবে জিঞ্জাসাবাদ করা হয়।
জাকিরের বরাত দিয়ে ওসি শাহজালাল মুন্সি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে সপরিবারে আমেরিকা যাওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে জাকিরসহ অন্যদের দেড় কোটি টাকা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী শহিব। কিন্তু আমেরিকা নেওয়ার জন্য তারা কালক্ষেপণ করে। ওখানে বাড়ি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, প্রসেসিং চলছে- এরকম অংখ্য মিথ্যা কথা বলে বুঝ দিতে থাকে। টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে ব্যবসায়ী শহিব উদ্দিনকে খবর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর শুক্রবার সকালে বিয়ানিবাজার-সিলেট সড়কে উপজেলার গাছতলা এলাকা থেকে গলা কাটা অবস্থায় বিয়ানীবাজার পৌর সদরের আবরণী ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী শহিব উদ্দিনের (৬০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসির ধারণা, শহিব উদ্দিনকে অন্য এলাকায় নিয়ে হত্যার পর মরদেহ বহন করে সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের গাছতলা এলাকায় রাস্তা সংলগ্ন ঝোপে ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা। তবে, হত্যাকাণ্ডে বেশ কয়েকজন জড়িত থাকলেও তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে অন্যদের নাম প্রকাশ করা হয়নি- বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
শহিব উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার ইটাউরী গ্রামে। বর্তমানে তিনি স্থায়ীভাবে বিয়ানীবাজার পৌরসভার সুপাতলা গ্রামে বসবাস করতেন।
(আজকের সিলেট/২৮ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)