২৬ এপ্রিল ২০১৮
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে ভোগান্তির এক নাম ‘বিরতিহীন’ বাস সার্ভিস। বিরতি দিয়েই চলে ‘বিরতিহীন’। টিকিট ছাড়া যাত্রী তোলা ও নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে পথে পথে চলে যাত্রী উঠা-নামা করানোর অভিযোগ রয়েছে চালক হেলপারদের বিরুদ্ধে। এমনকি নির্ধারিত সিটের বিপরীতে দিগুণ লোক বহনেরও অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের।
সূত্র জানায়, বিরতিহীন বাস সার্ভিসের যাত্রীদের কোনো ধরণের অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পরিবহণ মালিক কর্তৃপক্ষ। সেজন্য প্রতিটি বাসে একটি অভিযোগ সংক্রান্ত খাতা রাখার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, বিরতিহীন বাসে অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো খাতা নেই।
পরিবহণ শ্রমিকরা বলছেন, আগে সবই ছিল। কিন্তু রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোনো আইনই পালন করা হচ্ছে না। অপরদিকে পরিবহণ মালিকরা বলছেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি ঠিকিই। কিন্তু চালকরা নিয়ম মানে না। আমরা তাদের কাছে এক ধরণের জিম্মি।
জানা গেছে, ওই রুটের বিরতিহীনগুলোতে আগে টিকিটের ব্যবস্থা থাকলেও এখন নেই। টিকিট ছাড়াই ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করেন হেলপাররা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের সাথে চালক-হেলপারদের দ্বন্ধ দেখা দেয় প্রতিনিয়ত।
জানা গেছে, সিলেট-কালিগঞ্জ-জকিগঞ্জ রুটে বিরতিহীনের বাস সার্ভিসের স্টপেজ রয়েছে ১০টি। আর সিলেট-রতনগঞ্জ-জকিগঞ্জ রুটে রয়েছে ৭টি। কিন্তু চালকরা যাত্রাপথে ২০/২৫ স্থানে বিরতি নেন। এছাড়া ভাঙা কিংবা স্পীড ব্রেকার অতিক্রম করার সময়ও যাত্রী উঠা-নামা করান।
যাত্রীদের অভিযোগ, সিলেট থেকে শাহগলি পর্যন্ত বিরতিহীন বাসগুলো কিছুটা নিয়ম মানে। এর পর থেকে জকিগঞ্জ পর্যন্ত কোনো নিয়ম মানে না। ইচ্ছেমত যাত্রী উঠানামা করায়।
বাস যাত্রী আফজাল আহমদ বলেন, বিরতিহীনে যাতায়াতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। মাঝপথ থেকে যাত্রী উঠানো-নামানো করানো হয়। তাছাড়া বিরতিহীন গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী দাঁড় করিয়ে নেয়া হয়। বেআইনি এ কাজের প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করা হয়। চালক হেলপারের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ।
সিলেট যাত্রী সালেহ সিদ্দিকী বলেন, সকাল ৮টার বিরতিহীনে উঠলাম সিলেটে যাওয়ার জন্য। সারা পথ লোকাল গাড়ির মতোই যাত্রী উঠা-নামা করালো। কথা বললে কে কার কথা শুনে? তাই বিকেলে ইচ্ছে করেই লোকাল গাড়িতে ফিরে আসি।
আরেক যাত্রী সুমন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিলেট-জকিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাসে যাত্রীসেবার মান নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই বছরের পর বছর ধরে। এ ব্যাপারে বিস্তর লেখালেখি, সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি আন্দোলনও হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। তারপরও সেবার মান নিম্নমুখী।
তিনি বলেন, বাস মালিক-শ্রমিকরা এক আর পাবলিক বিচ্ছিন্ন, তাদের যেহেতু কোনও ইউনিয়ন নাই, তাই বাধ্য হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আর প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে হয়রানীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাস মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, আমরা যাত্রীদের সুবিধার জন্য কিছু আইন করে দিয়েছি। কিন্তু চালকরা এসময় মানে না। তিনি বলেন, তাদের কাছে আমরা জিম্মি।
তবে মালিক সমিতির এমন বক্তব্যকে অস্বীকার করেন বাস চালক সমিতির সধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, বাস মালিক সমিতির সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক। যেকোনো নিয়ম-নীতি আনয়ন করলে আমরা এক সাথে বসে করি। এখানে কেউ কারো কাছে জিম্মি না।
তিনি বলেন, আগে সিলেট-কালিগঞ্জ-জকিগঞ্জ সড়কে গন্থব্যে পৌছতে বিরতিহীনের সময় ছিল আড়্বাি ঘন্টা। কিন্তু এখন রাস্তা ভাঙার কারণে ওই সময়ের মধ্যে গাড়ি যায়ো সম্ভব হয় না। ৩ঘন্টা কিংবা আরো বেশি সময়েও গন্থব্যে পৌছতে পারে না।
টিকিটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে রাস্তা ভাঙা হওয়ায় সব নিয়ম কানুন স্থবির হয়ে গেছে। আগে টিকিট দেওয়া হত। এখন টিকিট ছাড়াই চলে। আগে সব গাড়িতে অভিযোগের খাতা ছিল। এখন কেউ রাখে না। একসময় সবই ছিল; রাস্তার জন্য সব ওলট পালট হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। বেশির সময় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরিবহণ শ্রমিক সমিতি সিলেট জেলা সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, বিরতিহীনের ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(আজকের সিলেট/২৬ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)