১৫ এপ্রিল ২০১৮


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যরে মধ্য দিয়ে শবে মেরাজ পালিত

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্র্মীয় ভাব গাম্ভীর্য্য ও যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হয়েছে। অলৌকিক, অসামান্য ও মহাপূণ্যে ঘেরা রজনী পবিত্র শবে মেরাজ পালন উপলক্ষে মসজিদে-মসজিদে জিকির, আসকার, ওয়াজ মাহফিল, কোরআন খানি, দোয়া-দুরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মুসলমানরা গতরাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করেন।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নবুওয়তের একাদশ বর্ষের ২৬ রজবের দিবাগত গভীর নিশিতে মহান আল্লাহর খাস রহমতে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) সাথে পবিত্র কাবা হতে ভূমধ্য সাগরের পূর্ব তীরে ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা অত:পর সত্তর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। পবিত্র শবে মেরাজের আগে ও পরে বহুবার মহানবী (সাঃ) এর আত্মীক ও মানসিক মেরাজ সংঘটিত হলেও এবং অসংখ্যবার ওহির মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশনা লাভ করলেও সশরীরে মক্কা জেরুজালেম হয়ে উর্ধ্বলোকে স্রষ্টা সমীপে গমনের ঘটনা এটিই।

মেরাজ হচ্ছে মহানবী (সাঃ) এর একক বৈশিষ্ট। আল্লাহ কর্তৃক বিশ্বজগৎ সৃষ্ট, সুরক্ষা, নিয়ন্ত্রণ ও অভীষ্ট যাত্রার মূল উপলক্ষ তার প্রিয় রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র মেরাজ মানব ইতিহাসে অসাধারণ ঘটনা। যার কোনো তুলনা বা উপমা নেই। এ সম্মান কেবল বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর। মর্যাদা শুধু তার প্রিয় উম্মতের। হাদীসে মহানবী (সাঃ) বলেছেন, নামাজ মুমিনের মেরাজ। তিনি ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে আল্লাহর দিদার (সাক্ষাত) লাভ করে সেখান থেকেই উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

মেরাজকালে মহানবী (সাঃ) সৃষ্টিজগতের সবকিছুর রহস্য স্বচক্ষে দেখেন। এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) হয়। তাই, মানবজাতির জন্য এই রাতটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

মসজিদে-মসজিদে ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। মুসলিম নর-নারীরা নফল নামাজসহ ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে পবিত্র এ রাতটি অতিবাহিত করেন।

(আজকের সিলেট/১৫ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন