২ ডিসেম্বর ২০২৩
গ্রামে মাঠের ধারে, মেঠোপথের কিনারে অথবা ঘরের কোণে খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে থাকতে এখন আর চোখে পড়ে না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যে এই খেজুরগাছ বর্তমানে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ। একইসঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছেন ‘গাছি’ নামের শিল্পীরা। ঐতিহ্যগতভাবে শীতের ভোরে একগ্লাস খেজুরের রস পান করতে ইচ্ছা জাগে রসনা বিলাসীদের। কিন্তু গ্রামীন জনপদের ঐতিহ্যের বাহক এই মধুবৃক্ষ তুলনামূলকভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সময়ের সঙ্গে দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে শীতকালীন ঐতিহ্য রসনা বিলাসী খেজুরের রস ও এর তৈরি নানা পদের পিঠা।
গ্রামে মাঠের ধারে, মেঠোপথের কিনারে অথবা ঘরের কোণে খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে থাকতে এখন আর চোখে পড়ে না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যে এই খেজুরগাছ বর্তমানে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যে হারে খেজুরগাছ নিধন করা হচ্ছে, সে তুলনায় রোপণ করা হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে দু’একটি খেজুরগাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। শীত মৌসুমের সকালে খেজুরের তাজা রস ও রসে ডুবানো পিঠার স্বাদ আর মৌ-মৌ গন্ধ এখন পাওয়া যায় না।
উপজেলার খোয়াই নদী সংলগ্ন সুদিয়াখলা গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে গাছি কুদ্দুস মিয়া জানান, এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এক সময় এই এলাকায় অনেক খেজুর গাছ ছিল, প্রচুর রসও পাওয়া যেত। এখন খেজুর গাছের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে পেশাদার গাছিরা অন্য পেশায় চলে গেছেন।
তিনি বলেন, খেজুরগাছ কমে যাওয়ায় গাছিদের চাহিদাও কমে গেছে। আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাতে পারতেন এবং তাতে সংসার চালিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করা যেত। এখন গ্রামে যে কয়েকটা খেজুর গাছ আছে, তা বেশি বয়সের হওয়ায় তাতে তেমন রস পাওয়া যায় না।
দাউদনগর গ্রামের রস প্রেমিক বাবুল বলেন, এখন শীত মৌসুমের ভোরে এক গ্লাস তাজা খেজুরের রস খেতে কে না চায়। তবে খেজুরের রস তেমন পাওয়া না গেলেও খেজুরের রসে তৈরি পাটালী গুড়, ঝোলা গুড়, মরিচা গুড় ইত্যাদি এখনো পাওয়া যাচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, খেজুর গাছের সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি নতুন করে খেজুরগাছ রোপণ করা জরুরি। খেজুর গাছ এবং এর রস ঐতিহ্যগতভাবে বাংলার সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে। পুষ্টিগুণ এবং মিষ্টতায় এর জুড়ি মেলা ভার। খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় বাংলার পিঠা উৎসবের অনুসঙ্গ। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পতিত জমিতে এবং রাস্তার দু’পাশে খেজুর গাছ লাগানো যেতে পারে। এতে পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নান্দনিক ছন্দ ছড়াবে।
এএস // আতারা