২৮ নভেম্বর ২০২৩


হবিগঞ্জে শীতে বাড়ছে শিশুরোগী

বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩০০টির বেশি শিশুরোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। বেশিভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগী। স্ক্যানুতে গতকাল নির্ধারিত সিটের প্রায় ৭ গুণ রোগী ভর্তি ছিল। অক্টোবরে মারা যায় ৩২ শিশু। ছবি : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশজড়ুে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। এসেছে শীত। তবে হঠাৎ এ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে হবিগঞ্জে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, শাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ নারী ও বৃদ্ধরা।

জেলা সদর হাসপাতালে নবজাতকদের বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্রে (স্ক্যানু) নির্ধারিত সিটের প্রায় সাতগুণ রোগী ভর্তি ছিল গত শনি ও রোববার । কিন্তু সেখানকার অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট। স্ক্যানুতে সর্বশেষ ৯ দিনে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে। গতকাল হাসপাতালে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড, স্ক্যানু ও বহির্বিভাগ—সবখানেই শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। শিশু ওয়ার্ড ও স্ক্যানুর মেঝেতেও শয্যা পেতে রোগী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্ক্যানুতে নবজাতক নিয়ে স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। স্ক্যানুসংলগ্ন কক্ষটি নবজাতকের মা এবং স্বজনদের ভিড়ে ঠাসা। স্ক্যানুতে ১১টি সিট থাকলেও দুটি নষ্ট। শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সেখানে ভর্তি ছিল ৬২ নবজাতক। এর মধ্যে এদিন সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের ছামাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বজনদের কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আগের দিন শুক্রবার সেখানে তিন নবজাতকের মৃত্যু হয়। ১৮ থেকে ২৫ নভেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত ১৪ নবজাতক মারা যায়। এর মধ্যে ১৮, ২২ ও ২৪ নভেম্বর তিনটি করে নবজাতকের মৃত্যু হয়।


স্ক্যানুর রেজিস্টার থেকে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে এ পর্যন্ত সেখানে ৩৬ নবজাতক মারা গেছে। অক্টোবর মাসে মারা যায় ৩২ শিশু।

স্ক্যানুতে দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে ১১টি ওয়ার্মার সিটের মধ্যে দুটি নষ্ট। ৯টি সিটে নবজাতকদের ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফটোথেরাপির তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি ভালো, একটি নষ্ট। নেই কোনো ইনকিউবেটর।

শিশু ওয়ার্ডে শনিবার ভর্তি ছিল ১৮২ শিশু। অথচ সেখানে সিট আছে ৫৯টি। ভর্তি রোগীর বেশিভাগই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার। সেখানে রোগীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্সদের।

হাসপাতালের আউটডোরে যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুদ রানা জানান, প্রতিদিন সেখানে ৩০০-এর বেশি শিশু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। বেশিভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগী। আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্যই রোগীর সংখ্যা বেশি।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশীষ দাস বলেন, শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ বেড়েছে। ফলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেশি। স্ক্যানুতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হলো এখানে যেসব নবজাতক আসে, তাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ থাকে। সাধারণত গ্রামে অদক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে ডেলিভারির (প্রসব) জন্য নবজাতককে মুমূর্ষু অবস্থায় এখানে আনা হয়। আর শীতকালে ডেলিভারি বেশি থাকে। রোগীও বেশি হয়। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। তবে স্ক্যানু নবজাতকের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এনআইসিইউয়ের।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, শিশু ও গাইনি ওয়ার্ডে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্ক্যানুতে নষ্ট যন্ত্রপাতি দ্রুতই মেরামত করা হবে।

এএস // আতারা

 

শেয়ার করুন