২৩ নভেম্বর ২০২৩


সুনামগঞ্জে দুই উপজেলার গ্রামবাসীর অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণ শুরু

ফাইল ছবি

শেয়ার করুন

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তে থাকা বা‌লিয়া ও কলুমা গ্রামবাসীর ‌অর্থে দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছেন গ্রামবাসী।

ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই সাব-মার্জেবল রাস্তার পার্শ্বে মু‌জিবনগর গ্রাম সংলগ্ন রাস্তা সা‌থে মধ‌্যনগর-ধর্মপাশা উপ‌জেলা সড়‌কের সা‌থে যুক্ত হ‌বে। এতে করে চলাচল কর‌তে পার‌বে বালিয়া-কলুমা গ্রামবাসী।দুটি গ্রামের কষ্টের অনেকটাই হবে লাঘব।এবং নিরাপদে শুকনো মৌসুমে জনচলাচলের হবে অনেকটাই সুবিধা।

মেঠো রাস্তাটির উচ্চতা ১ফুট,প্রস্থ্যে ৯ ফুট ও দৈর্ঘ্যতা হবে ২ কিলোমিটার। তবে উদ্দোক্তারা পড়েছেন বিপাকে,অল্প টাকায় লক্ষে পৌঁছতে পারবেন কিনা? নবনির্মিত রাস্তার জন‌্য দুই গ্রামের প্রত্যেক প‌রিবা‌রের সাধ‌্যমত অর্থে দি‌য়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন দুই গ্রামের কয়েকজন উদ্দোক্তা। উদ্যোক্তা‌দের একজন পিযুষ সরকা‌র বলেন” এই টাকা দি‌য়ে রাস্তা কতটুকু হ‌বে জা‌নি না, ত‌বে রাস্তাটা যদি এই মুহূর্তে করা না হয় কিছুদিন পরে রাস্তার জায়গা থাকবেনা।

২০ নভেম্বর সোমবারে রাস্তার কাজ উদ্ভোধন করেন দু’গ্রামের কয়েকজনের মধ্যে বালিয়া গ্রামের নারায়ণ তালুকদার, দীপক তালুকদার, পিযুষ সরকার, রঞ্জন তালুকদার, রিপন তালুকদার ও কলুমা গ্রা‌মের বিপুল তালুকদার, বিরাজ তালুকদার, বাবুল তালুকদারসহ ও সুনই গ্রামের পেশাজীবী লোকজ‌ন।

বা‌লিয়া গ্রা‌মের বা‌সিন্দা সুমন তালুকদারের সা‌থে মুঠোফোনে কথা ব‌ললে তি‌নি ব‌লেন”এটা অত‌্যান্ত সুন্দর উদ্যোগ।এই রাস্তার কাছে প্রচ‌লিত প্রবাদও হার মানায়।”বর্ষায় নাও হেম‌ন্তে পাও, এই প্রবাদও চ‌লে না”। এখা‌নে পায়ে হেটে চলার মত পথও নেই।আছে শুধু ধান ক্ষেতের আইল। মোটর সাইকেলতো! দুরের কথা বাইসাইকেল তথা হে‌টেই যাওয়াই অসম্ভব। একজন রোগীহলে আর কোন ভাষা থাকে না সেই আগেকার দি‌নের মত চাঙ্গা‌ড়ি দিয়ে নিতে হয়ে কাদে করে। মাঝে মধ্যে বৃ‌ষ্টি হ‌লে মরার উপর খাড়ার ঘা।মাধ্যমিক ও -ক‌লে‌জের ছাত্র/ছাত্রীর চলাচল, ‌কৃ‌ষিজাত পণ‌্য ক্রয় বা বিক্রয় বা ফসল পরিবহন দুঃসাধ‌্য বিষয় । বয়ষ্ক বৃদ্ধ মানুষ ও অসুস্থ মানু‌ষের জন‌্য নিয়‌মিত চলাচ‌লের ক্ষে‌ত্রে রাস্তা‌টি এক‌টি অমানবিক দুঃ‌খের কারণ।দুদশকে পুর্বে প‌তিত জ‌মি, সুন্দর হিজ‌লের বন ও ম‌নোরম পরি‌বেশ ছিল,পর্যট‌ন সম্ভাবনাময় স্থান,যা বর্তমানে উজাড় হ‌য়ে আবাদী জ‌মি‌তে প‌রিণত হ‌য়ে‌ছে। জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা ছিল রাস্তা হবে। কিন্তু এই আশায় “পুলা বেটা বুড়া হলেও” নেই কোন খবর? এখন হে‌টে চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত নেই। গ্রা‌মের অ‌নেক মানুষ পড়াশুনাসহ নানান সু‌বিধার জন‌্য এখন অন‌্যত্র বসবাস করছে। তারা জ‌মি, ধান, মা‌টির মায়ায় বছরে দু‌য়েকবার মনচাইলে আসে। আমাদের দুটি গ্রামে জনপ্রতিনিধিরা আসেন শুধু ভোট প্রার্থনা করার জন্য। আধু‌নিক কৃ‌ষিও নেই রাস্তা না থাকায়।” হে‌ঁসে তি‌নি আরো ব‌লেন”নিমন্ত্রণ দি‌লেও কেউ আসে না আমাদের এই দুটি গ্রা‌মে।”তাই ব্যতিক্রমী মেঠো রাস্তা নির্মাণ কাজের সূচনা করেন পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিয়া ও পাশ্ববর্তী মধ্যনগর সদর ইউনিয়নে কলুমা গ্রামবাসী। আমার পক্ষ থেকে রইলো অফুরন্ত স্যালুট।

এনি‌য়ে সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যম ফেসবু‌কে উঠে আসলে গণমাধ্যমের নজরে আসে বিষয়টি।এবং স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই জনসুবিধার্থে এমন উদ্দোগকে। Angkon Talukder নামীয় ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পোস্ট হুবুহু তুলে ধরা হলো:-

অবেহেলিত আমার প্রাণ প্রিয় এই বালিয়া ও কলুমা গ্রাম,একতাই শক্তি !

একতা ছাড়া কোনো কিছু সম্ভব না,আর সবাই এক থাকলে অনেক কিছু সম্ভব তার একটি বড় প্রমান হচ্ছে এই রাস্তার কাজ শুরু হওয়া,কারণ জন্মের পর থেকে শুনে আসতেছি রাস্তা হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি কোন পদক্ষেপ নেই।সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমাদের এই বালিয়া ও কলুমা গ্রাম আর এমন ভাবে অবহেলিত থাকবে না।এতোদিন তো ছিলামেই জন প্রতিনিধিদের আাশায়, ওরা তো আমাদের দাওয়াত রক্ষা করেছে কিন্তু দাওয়াত যে কেন দিলাম খাওয়ার পর আর মনে রাখে নাই,,,,খুব তো উন্নয়ন করলো, এখন খালি পায়ে হাইটাও গ্রামে যাওয়া যায় না,,,,এখন গ্রামবাসী নিজ অর্থায়নে একটু চেষ্টা করে দেখা যাক কি হয়, আশাকরি নিজ নিজ জায়গা থেকে গ্রামের সবাই এই ঐক্যবদ্ধতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো, গ্রামের ভালোর জন্য, নিজের ভালোর জন্য,তাহলেই সম্ভব সকল অবহেলা থেকে, গ্রামকে, গ্রামের মানুষদের মুক্ত করা। আর আমরা আগামী প্রজন্ম যারা আছি তারাও অনেক কিছু শিখতে পারবো,গ্রামবাসির এমন উদ্যোগ দেখে সত্যি অনেক ভালো লাগছে।আশা করি সামনে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব। আমি গ্রামবাসীর সকলের এই উদ্যোগ নিয়ে গর্বিত।

শেয়ার করুন