১৯ নভেম্বর ২০২৩
অমৃত জ্যোতি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানা প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হলেও এখনো উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য কোন এমবিবিএস ডাক্তার নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন সীমান্ত এলাকার আদিবাসীসহ উপজেলার চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্বাধীনতার পর থেকে মধ্যনগরে কোন সরকারি এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন না এবং বর্তমানে উপজেলায় পরিণত হওয়ার পরেও এজাতীয় কোন চিকিৎসক নিয়োজিত হন নি।যদ্দরুণ চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে হয় নারী ও শিশুসহ সব বয়েসিদের।
আরও পড়ুন : সুনামগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ : দুই সাংবাদিকসহ আহত ১৪
এমবিবিএস ডাক্তার নাথাকায় পল্লী চিকিৎসকের সহায়তা নেন এলাকার গরিব-দুখী মানুষেরা।ঝুঁকিপূর্ণ রোগী হলে জেলা শহরে যেতে যেতে অনেকই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান। আর সামর্থবানরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অথবা নেত্রকোনা জেলা শহরে চলে যান।
১৯৭৬ সালে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন, চামরদানী ইউনিয়ন,বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়ন ও বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় মধ্যনগর থানা।তবে নির্মিত হয় নি কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।বিগত২০২১ সালের ২৬ জুলাই নিকারের ১১৭তম সভায় মধ্যনগরকে উপজেলা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষয়টি লুকায়িত। এমনকি এমবিবিএস দ্বারা চালু হয়নি কোন চিকিৎসা সেবার সুবিধা।
আরও পড়ুন : সবুজের মায়ায় ঘেরা শীতের সিলেট
২২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলাটিতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। উপজেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে।তাতে দুজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে একটিতেও নেই চিকিৎসক। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এমসিএইচ’র অধীনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দু’টিতে মিডওয়াইফ ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্টের মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি ও বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বিতরণ করা হয়।তবে হয় না কোন জরুরী রুগীর চিকিৎসা।
ভুক্তভোগী উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক মোঃরুহুল আমীন তালুকদার রব বলেন,আমি প্রতিমাসে দু’বারের অধিক ৭০ কিলো রাস্তা পাড়ি দিয়ে নেত্রকোনায় গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে থাকি।এর একমাত্র কারণ মধ্যনগরে এমবিবিএস চিকিৎসকের অভাব। আমার প্রচুর অর্থ ব্যায় হয়।যারা সীমান্ত থেকে আসেন তাদের অনেক কষ্ট ও ব্যাপক খরচ হয়। প্রায় ৬ঘণ্টায় নেত্রকোনা গিয়ে চিকিৎসা নেন।আবার পথিমধ্যে অনেকেই মরাও যান।
আমি দাবী জানাচ্ছি, আমাদেরকে দ্রুতই যেন একজন এমবিবিএস চিকিৎসক দেয়া হয়।
ধর্মপাশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মুসতাসির বিল্লাহ বলেন, মধ্যনগরে একটি ২০শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের অনুমোদন হওয়ায় একজন এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছিল।পরে সেটি বাতিল হওয়ায় চিকিৎসকও পাওয়া যায় নি।
আরও পড়ুন : আজ ও কাল সিলেটসহ দেশজুড়ে বিএনপির হরতাল
এবিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট জোড়ালো ভাবে তুলে ধরব দ্রুতই যেন একজন এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন করা হয়।আদিবাসীসহ সকল জনমানুষ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন জানান,মধ্যনগর উপজেলার চিকিৎসক সম্পর্কিত বিষয়টি এখনো ধর্মপাশার আওতায়।তবে মধ্যনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য জমি একোয়ার করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।আশা করছি খুব শিগগিরই অনুমোদন আসবে। তখন সব ধরনের চিকিৎসা সেবা পাবেন মধ্যনগরবাসী।