৩০ ডিসেম্বর ২০২৩


গোয়াইনঘাটে ৯টি মামলার আসামি চোর সর্দার গ্রেফতার (ভিডিও)

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: গোয়াইনঘাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম থানায় যোগদান করেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অল্প দিনের ভিতরে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চোরাচালানসহ ৯টি মামলার আসামি কামরুলকে গ্রেফতার করবেন। কামরুল হোসেনকে গ্রেফতার করে তিনি তার কথা রাখলেন। রবিবার গোয়াইনঘাট থানায় তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কামরুল গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেদেন ওসি রফিকুল।

তিনি বলেন সিলেট জেলার অপরাধ দমন, আসামী গ্রেফতার ও জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ, সিলেট নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া জেলার সংঘটিত সংঘবদ্ধ অপরাধ, ভিকটিম উদ্ধার, মাদক, খুন, ধর্ষণ, চোরাচালান, পরোয়ানাভুক্ত ও চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে জেলা পুলিশ, সিলেট সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের অভিযানে শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলার ৪নং লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত সতি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সতি গ্রামের ইসরাক আলীর ছেলে কামরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চোরাচালানসহ মোট ০৯টি মামলা রহিয়াছে যাহা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন তাছাড়াও আসামীর বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট সিস্রার-২১/২২, ধারা-৩৭৯/৪৫৭/৫০৬(২) পেনাল কোড, গোয়াইনঘাট জিআর-১৬০/২৩, ধারা-৬১৩ পেনাল কোড, গোয়াইনঘাট জিআর-৩২৮/২২, ধারা-১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি, গোয়াইনঘাট জিমার-৩০২/২২, ধারা- ৪৫৭/৩৮০/৪১১ পেনাল কোড ধারায় ০৪টি গ্রেফতারী পরোয়ানা তাহার নামে মূলতবী থাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সে তাহার নিজ বসত ঘরে অবস্থান করিতেছে। গত ২৯/১২/২০২৩খ্রিঃ তারিখ রাত ১৯.৩০ ঘটিকার সময় তাহার নিজ বাড়ী গোয়াইনঘাট থানাধীন ০৪নং লেঙ্গুরা ইউনিয়নের অন্তর্গত সতী সাকিনস্থ আসামী কামরুল ইসলাম এর বসত বাড়ীতে উপস্থিত হইয়া তাহার বসতঘর ঘেরাও করি। ঐ সময় এসআই(নিঃ)/কামাল হোসেন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ আসামী কামরুল ইসলাম এর বসতঘরে প্রবেশ করিয়া কামরুল ইসলামকে ধৃত করার চেষ্টা করিলে আসামী কামরুল ইসলাম তাহার কোমড়ে থাকা একটি খাড়ালো দা হাতে নিয়া প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ী কোপাইতে থাকিলে নয়জন পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের মধ্যে দুইজন অফিসার গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হন। অন্যান্যরা আঘাতপ্রাপ্ত হন।

এমতাবস্থায় আসামীকে পাকরাও করিলে সুকৌশলে তাহার বিছানার নিচ হইতে ৩ ফুটি লম্বা ধারালো তরবারী বাহির করিলে আত্মরক্ষার্থে ০১ রাউন্ড রাবার বুলেট ফায়ার করিলে আসামীর ডান উরুতে লাগিয়া মাটিতে পড়িয়া গেলে তাহাকে ঝাপটাইয়া ধরিয়া গ্রেফতার করা হয়। আসামীর হাতে থাকা ধারালো না যাহা লম্বা ২ ফুট, লোহার অংশ ১৭ ইঞ্চি, কাঠের অংশ ০৭ ইঞ্চি, ০১টি তিন ফুট লম্বা ধারালো তরবারি যাহার লোহার অংশের দৈর্ঘ্য ২৭ ইঞ্চি ও কাঠের বাটের দৈর্ঘ্য ৯ ইঞ্চি, আসামীর কোমড়ে থাকা ০১টি প্লাষ্টিকের হাতল যুক্ত চাইনিজ কুড়াল, যাহা বাটসহ দৈর্ঘ্য ১৪ ইঞ্চি, যাহাতে লোহার অংশের দৈর্ঘ্য ৬ ইঞ্চি ও ধারালো অংশের দৈর্ঘ্য ৪ ইঞ্চি উদ্ধার পূর্বক আসামী কামরুল ইসলামকে হেফাজতে নেই। এসময় আসামী কামরুল ইসলাম এর মা ধৃত আসামী জুলেখা বেগম, বোন রুনা আক্তার রুমি ও আসামী কামরুল ইসলামের ফুফাতো ভাই আব্দুল বাসিত দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়া আসামী কামরুল ইসলামকে আমাদের হেফাজত হইতে ছিনাইয়া নেওয়ার জন্য অতর্কিতভাবে হামদা করিয়া এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় পরোয়ানাভুক্ত আসামী কামরুল ইসলামসহ আসামীদেরকে আটক করিয়া আসামী কামরুল ইসলাম ও তার মাকে গোয়াইনছাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়া গেলে আসামী কামরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করিলে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার মায়ের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গোয়াইনঘাট খানায় হস্তান্তর করেন। উক্ত বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

শেয়ার করুন