২২ জুলাই ২০১৭
শামসুল ইসলাম শাকেল, কাতার থেকে : মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতার। পারস্য উপসাগরের তীরের এই দেশটিতে বর্তমানে কর্মরত আছেন চার লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি। এদের অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সুনামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন দেশটিতে।
এমনই একজন মীর মোশারফ হোসেন(৪৫)। বাবার নাম মরহুম ইরজাদার আলী। বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার, পুরান বাজার গ্রামে। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি প্রথম। নিজ পরিবার পরিজন আত্নীয়দের নিয়ে থাকেন কাতারে।
পরিবারের আর্থিক অভাব দূর করতে মীর মোশারফ হোসেন নিজ আরবি (সস্পন্সর) এর ফটোস্টুডিও দোকানে চাকরি নিয়ে ১৯৮৮ সালে দেশটিতে শুরু করেন প্রবাসী জীবন। ১৯০ সালে নিজ (স্পস্নর) থেকে রিলিজ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে একে একে গড়ে তোলেন ৪ টা ফটোস্টুডিও, ১৯৯৫ সালে স্টুডিও ব্যাবসা ছেড়ে দিয়ে কাতারস্ত নাজামা এলাকায় ১০০ বছরের জন্য দোকান কোটা লিজ নিয়ে শুরু করেন বিল্ডিং মেটারিয়ালস্ ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর শো-রুম এবং শো-রুম এর নাম দেন হযরত শাহজালাল টেডিং ই.এস.টি সেই থেকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
নিজ জন্মস্থান ফেঞ্চুগঞ্জেত মানুষকেও কাতারে এনে স্বাবলম্বী করেছেন মীর মোশারফ হোসেন। ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নে, শ পরিবার ও তার এলাকার ২০০ সদস্য বর্তমানে কাতারে রয়েছেন। তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখন বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক চাকরি করছেন।
সফল এই ব্যবসায়ী ও ফেঞ্চুগঞ্জ অয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন এর প্রতিস্টাতা মীর মোশারফ হোসেন আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, কাতারে বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য পরিশ্রম করতে হবে। এখানে অর্থ অপচয়ের প্রচুর জায়গা রয়েছে সেখান থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, কাজকে প্রাধান্য দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা এখানে অর্থ উপার্জন করতে এসেছি। আর মনে রাখতে হবে সততা, নিষ্টা ও নিজেকে আত্মনিয়োগ না করলে জীবনকে প্রতিস্টিত করা যায় না, তার বাস্তব প্রমান আমি নিজে।
তিনি আরও বলেন, নিজের ভাগ্য নিজেই পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। অন্য কেউ বদলে দিতে পারবে না।
তিনি আপসোস করে বলেন, কাতারে চার লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করলেও নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। যারা দায়িত্ব নিবেন সেখানেই ঐক্য গড়ে তুলবেন। কাতারে জাতিগত বা ব্যক্তিগত মর্যাদা কোনোটাই বাড়াতে পারেনি আমরা। কাজ জানা লোকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে কাতারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক সঙ্কটে কাতার প্রবাসীদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তিনি।
(আজকের সিলেট/২২ জুলাই/প্রতিনিধি/এসটি/ঘ.)