৯ নভেম্বর ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক :সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বচনের একদফা দাবিতে বিএনপি ঘোষিত তৃতীয় দফা সর্বাত্মক অবরোধের শেষ দিন বৃহস্পতিবার। দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হচ্ছে। সিলেট বিভাগের শহর-বন্দর অরোধের আওতামুক্ত থাকলেও সড়কগুলোতে দুর পাল্লার যানবাহন চলাচল করছে না। সিলেট থেকে যাত্রীবাহী কোনো ছেড়ে ও এসে পৌঁছায়নি। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িঘরে যেতে অনেকেই অপেক্ষার প্রহন গুনছেন। অবরোধ শেষ হলে গভীর রাতে হলেও তারা বাড়িঘরে পৌঁছবেন।
পরিবহন বন্ধ থাকায় অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। শহরে-বন্দরে নিত্যপণ্যে আমদানী বন্ধ থাকায় ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও দিনভর ক্রেতাশূন্য সময় কাটিয়েছেন দোকানীরা। অফিস আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। দুরবর্তী অবস্থানের কর্মচারী কর্মকর্তারা উপস্থিত হতে পারেনি। আদালতে বিচারাধীন অনেক মামলার শুনানী ও সাক্ষ্যগ্রহন পেছানো হয়েছে।
নাম পরিচয় না করার শর্তে নগরের বন্দরবাজারেএক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন দোকান খোলা রাখতে হয়। কিন্তু কর্মূচারীরা দূর থেকে আসতে না পারায় নিজেই দোকানে থাকতে হয় সারাক্ষণ। অবরোধের কারণে বাইর থেকে ক্রেতারা শহরে আসতে পারছেনা বিধায় বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ঘনঘন অবরোধের ফলে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
নগরের বাইরের এক কাচামাল ব্যবসায়ী জানান, শুকনো মওসুমে কাচামাল ও সবজি নিয়ে শহরে আসতে না পারায় নগর বন্দরের মানুষজন চড়া মূলে কিনে খেলেও মাঠে ও ক্ষেত খামারে সবজি পেকে পচন ধরছে। সবজি নিয়ে শহরে আসতে না পারায় সবজি চাষীদের মাথায় হাত।
অবরোধ চলাকালে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা অফিসিয়ালি খোলা থাকলেও ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অবরোধকারীরা শহরের বাইরে সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে পিকেটিং করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথোও কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। অবরোধের পক্ষে শহরে কোনো মিছিল সমাবেশ না হওয়ায় সিলেটে অনেকটা নিরবে নিবৃতে পালিত হয়েছে শেষদিনের অবরোধ।
তবে যেকোন ধরণের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিলেট নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে।