৬ নভেম্বর ২০২৩


অবরোধের শেষ দিনেও সিলেটে ছিল নেতিবাচক প্রভাব

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমান : সরকারের পদত্যাদের একদফা দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি’র দ্বিতীয় দফা স্থল ও জলপথ অবরোধের শেষদিন সোমবারও নেতিবাচক প্রভাব ছিল সিলেটের নগর ও গ্রামীণ জীবনে। যদিও আগের দিন রোববারের ন্যায় মিছিল পিকেটিং হয়নি। সড়ক-মহাসড়কে বিক্ষিপ্ত মিছিল সমাবেশ হলেও  অনেকটা নিরব অবরোধ পালিত হয়েছে সোমবার।

গত ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করতে না পেরে পরদিন দেশব্যাপি হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। পরে দেয় ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের টানা স্থলপথ ও জলপথ অবরোধের ডাক। নানা অঘটন ও রাৗৈনতিক উত্তাপের মধ্যদিয়ে তিন দিনের অবরোধ শেষ হয় বৃহস্পতিবার দিন শেষে রাতে।

দাবি পূরণ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফা রবিবার থেকে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ-কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। সে কর্মসূচির প্রথমদিন অতিম াত্রায় উত্তপ্ত অবস্থায় অতিবাহিত হলেও শেষ দিন ছিল অনেকটা নিরব নিস্তব্ধ।

দ্বিতীয় দফা অবরোধে শেষ দিন সোমবার (৬ নভেম্বর) রোববারের ন্যায় সকাল থেকে সিলেটের সড়ক মহাসড়কে গণপ পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। দুরপাল্লাপর কোনো বাস ট্রাক সিলেটে এসে পৌঁছায়নি এবং সিলেট ছেড়েও যায়নি। তবে পুলিশ ছাড় দেওয়ায় নগরে ও বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে অনুমোদহীন স্বল্প পাল্লার গণপরিবহন সিএনজি অটোরিক্শা, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত রিক্শা ও টমটম চলাচল করে। এতে করে দ্বিগুন ও তিনগুন ভাড়া গুনতে হয় এবং সময় ব্যয় করতে হয় যাত্রী সাধারণকে।

অবরোধের শেষ দিন সোমবার সিলেট নগরে রিক্শা অটোরিক্শা চলাচল করতে দেখা গেলেও তা ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। শহর বন্দরের দোকানপাট অবরোধের আওতামুক্ত থাকলেও ক্রেতাশূণ্য ছিল সিলেট নগরের সবকটি মার্কেট ও বিপনী বিতান।

বিকেল ৩টায় গিয়ে দেখা যায় দক্ষিণ সুরমাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে এ রিপোর্ট রেখা পর্যন্ত যাত্রীবাহী কোনো বাস টার্মিনাল ছেড়ে যায়নি। সব মিলিয়ে সিলেট নগর ও গ্রামীণ জীবনে সোমবারও নেতিবাচক প্রভাব ছিল অবরোধের।

এদিকে বিএনপি আহুত এ অবরোধ ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে অন্যান্য দিনের মতো সোসবারও মাঠে ছিল পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব। ভোর থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছিল আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বিজিবি সদস্যরা। বিশেষ করে মহাসড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছিল বিজিবি মেতায়েন করে। এছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ। নিয়মিত টহল দিচ্ছিল র‍্যাব।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফ (বিপিএম-বার, পিপিএম) গণমাধ্যমকে বলেন- জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করছি। যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত সিলেটে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনসাধারণের প্রতি আমাদের আহ্বান- আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজকর্মের জন্য  বের হওয়ার।

শেয়ার করুন