৫ নভেম্বর ২০২৩
শাহ্ মাশুক নাঈম : দোয়ারাবাজার উপজেলার টিলাগাঁও গ্রামের রাস্তার দু্ইপাশে ছড়িয়ে থাকা লাল শাপলা ফুল দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। বৈশাখী ধানক্ষেতে পানিতে সবুজ পাতার ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিস্তৃত দৃষ্টিজুড়ে সবুজের মাঝে সৌন্দর্যের শোভা ছড়াচ্ছে এসব ফুলেরা। ভোরের সূর্যের আলোয় ফুটন্ত লাল শাপলার চোখ জুড়ানো হাসি আশপাশের পরিবেশকে আলোকিত করে তোলে। জাতীয় ফুলের রঙ সাদা হলেও লাল শাপলা মানুষকে আকর্ষিত করে বেশি।

প্রতিদিনিই কাকডাকা ভোর থেকে লাল শাপলা দেখতে ভিড় জমায় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সব বয়েসের দর্শনার্থীরা। অনেকই নিজেকে লাল শাপলার সাথে ক্যামেরা বন্দি করেন।
স্থানীয়রা জানান, যে ধান ক্ষেতে লাল শাপলা ফুটেছে এখানে কৃষকেরা প্রতি বৈশাখ মাসে ধান চাষ করে। আর শীতকালে এখানে ধান চাষ না হওয়াতে সৌন্দর্যের শোভা ছড়ায় জাতীয় ফুল শাপলা । প্রাকৃতিক কারণে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেক সময় দর্শনার্থীরা সকাল বেলা এখানে ভিড় জমান। কারণ সূর্য উঠার সঙ্গে-সঙ্গে শাপলা ফুল নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করে, তখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে রক্তিম আভা। আর সূর্য প্রখর হলে ধীরে
ধীরে গুটিয়ে নেয় নিজেকে। যারা এ বিষয়ে জানেন, তারা ভোরেই চলে আসেন।
টিলাগাঁও গ্রামের রবিউল ইসলাম আজকের সিলেটকে বলেন, এই ক্ষেতে শুধু বৈশাখী ধান চাষ করা হয়। আর এই ধানক্ষেতে প্রাকৃতিকভাবে প্রতি বছর গজায় শাপলা ফুলের গাছ। প্রথমে অল্প কয়েকটি গাছ ছিল। এখন সহস্রাধিক হয়েছে। আর এ মনোমুগ্ধকর পরিবেশে শাপলা ফুলের হাসি দেখতে আশপাশের এলাকার তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষ সেখানে ভিড় জমায়।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ মহসিন আজকের সিলেটকে বলেন,উপজেলার খাল-বিল, হাওর ও পুকুর শুকিয়ে ফেলার কারণে শাপলা ফুল এখন বিলুপ্তির পথে। প্রকৃতিকে সজ্জিত করতে এ ফুলের শোভা ধরে রাখা প্রয়োজন ।
এএস // আতারা