১১ জুন ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : গরম মসলা ছাড়া মাংসের কথা তরকারীর স্বাদের কথা ভাবা যায় না। তাইত গরম মসলার ঝাঁজের জন্য মসলার বাজার অস্থির হতে শুরু করেছে। আসন্ন ঈদুল আযহার ঈদকে সামনে রেখে এবার অস্থির হতে শুরু করেছে মসলার বাজার। তার কারণ এই ঈদুল আযহার কোরবানি ঈদে মাংসের সুস্বাদু রান্না করার জন্য প্রয়োজন গরম মসলা। জিরা, ধনিয়া, গোলমরিচ, দারুচিনি, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, তেজপাতার দাম কেজিতে বেড়েছে দ্বিগুণ। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রাখা এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে মসলার দাম বাড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে ভোক্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা কুরবানী আগে দাম বাড়াতে পারবে না বলে আগে ভাগেই মাংসের অত্যাবশ্যকীয় মসলা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যাতে সরকারের তদারকি সংস্থার চাপে দাম কমাতে হলে মোটা অঙ্কের লাভ রেখে কমাতে পারেন। রবিবার সকালে সিলেট নগরীর বিভিন্ন মসলার দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় , ২ মাস আগে জিরার কেজি ছিল ৩২০-৩৫০ টাকা। এখন ৭০০-৭৫০ টাকা। সিলেটে কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ধনিয়া ১৯০ টাকা কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়, কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে দারুচিনির দাম এখন ৫৬০- ৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০-২৫০ টাকা। এটার দাম দুই মাস আগে ছিল ১৫০ টাকা।
প্রতি কেজি সরিষা বিক্রি ৫০-৩৭০ টাকা, মেথি থেকে ১৬০ টাকা, আলু বোখারা ৪৮০ থেকে ৫৩০-৫০০ টাকা, কিশমিশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাঠবাদাম ৭৩০ থেকে ৭৮০ টাকা, কাজুবাদাম ৮২০ থেকে ৯৫০ টাকা, পাঁচফোড়ন ১৫০ থেকে ২০০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মসলার দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লবঙ্গ-এলাচের দাম। ১৮ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি লবঙ্গ ৩০০ ও এলাচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচ ২৬০০ ও লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা। গেল রোজার ঈদে সিলেটে প্রতি কেজি আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
১৬ দিন আগেও প্রতি কেজি আদা ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ২৬০-৩০০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি রসুন কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।
নাম বলতে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় সারাদেশের ন্যায় সিলেটে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৯০-৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছিল ১০ থেকে ১২ দিন আগে তবে আমদানীর খবরে সিলেটেও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কমেছে। বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ । আমদানীর পেঁয়াজ সিলেটে আসলে দাম আরো কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর বিভিন্ন পাইকারী দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২৩ দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাই আমদানি করা মসলা পণ্যের দাম বাড়ছে। বর্তমানে রেট বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরাও বিপাকে পড়েছেন। তবে সরবরাহ বেড়ে গেলে মসলার দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
পাইকারী আরেক বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, কোরবানীর ব্যবসায়ীরা মসলা কোনো কারণে পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। তাই ব্যবসায়ীরা অন্য পন্থা অবলম্বন করছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপ পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে । গেল রোজার ঈদেও ভোক্তা অধিদপ্তর প্রতিদিন অভিযান চালিয়েছিল । সিলেটের সব মসলা চট্রগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজার থেকে আনা হয়। ক্রয়মুল্যের সাথে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বাজার মূল্য, বিক্রয়মূল্যের তালিকা রাখতে হবে প্রতিটি দোকানের সামনে আমরা বিশেষ ভাবে বাজার তদারকি করব।