১ নভেম্বর ২০২৩
আবু তালহা রায়হান : সিলেটসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা তিনদিনব্যাপী অবরোধের দ্বিতীয় দিন আজ (বুধবার)। প্রথম দিনের অবরোধে বেশ উত্তপ্ত ছিল সিলেট বিভাগ। হবিগঞ্জে আ.লীগ-বিএনপি-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত ২০, মৌলভীবাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, সুনামগঞ্জে বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মী আটক এবং সিলেটে গাড়ি ভাঙচুর,মহাসড়ক ও রেললাইনে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ধাওয়ায় যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ— ইত্যাদি কাণ্ডে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল প্রথম দিনের অবরোধ।
এদিন সিলেট থেকে কোন দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায় নি। জেলার সবক’টি সড়কই গণপরিবহনহীন ছিল। এছাড়া পিকেটিংকালে সিলেটে বিএনপি-জামায়াতের ৩ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

বুধবার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে যোগ হয়েছে হরতালও। সিলেট বিভাগের চার জেলায় এ হরতালের ডাক দিয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জিলুর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল শেষে যুবদলের নেতারা এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন জানান, জিলুর মৃত্যুর প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। হরতাল পালনে সিলেট যুবদলের নেতারা মাঠে সক্রিয় থাকবেন।
এ দিকে যুবদল নেতা জিলু আহমদ দিলু নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মুক্তিকামী জনতা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। সরকার জনতার ন্যায্য দাবির এই আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে নির্লজ্জভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। যে জিলু সকাল বেলায়ও দেশের মানুষের দাবি আদায় করার জন্য রাজপথে নেমেছিলেন, বিকেলে তাকে লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছে। এভাবে তো একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র চলতে পারে না। এই সঙ্কট থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করার বিকল্প নেই।’