৩১ অক্টোবর ২০২৩
আবু তালহা রায়হান : রোববার (২৯ অক্টোবর) দেশজুড়ে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে বিএনপি। সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এদিন সন্ধ্যায় দেশজুড়ে তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে সরকারবিরোধী দলটি। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন হবে। সিলেটসহ সারাদেশে তিনদিনব্যাপী এ অবরোধ কর্মসূচির আজ (মঙ্গলবার) প্রথমদিন। এখন পর্যন্ত কোন ঘটনা ছাড়াই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে সিলেট।
বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই সিলেটে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সবধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই নগরীর বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে দেখা গেছে পুলিশদের।
তবে রোববারের হরতাল কর্মসূচি জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে। এ হরতালে সিলেটে বেশকিছু ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়াসহ ভাঙচুর ঘটেছে। ফলে চলমান অবরোধে বিএনপির আড়ালে জামায়াতে ইসলামি ভয়ানক কিছু ঘটাতে পারে বলে শঙ্কিত মানুষজন।
আ.লীগ নেতারা বলছেন,বিএনপি-জামায়াত দেশ ও জাতির শত্রু। শান্তিপূর্ণ একটি দেশে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। হরতাল,জ্বালাওপুড়াও,ভাঙচুর— এসব জামায়াত-বিএনপির নিত্যদিনের স্বভাব।
তারা বলেন,গেল হরতালে সিলেটজুড়ে বিএনপির আড়ালে জামায়াত মাঠে ছিল বেশি। ভাঙচুর,হানাহানিসহ বেশকিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। এতে চলমান অবরোধেও শঙ্কায় রয়েছেন মানুষজন।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, আমরা খেটে-খাওয়া মানুষ। রাস্তায় বের হলে ঘরে দু’মুঠো ভাত রান্না হয়। বের না হলে না খেয়ে থাকতে হয় শিশুদের। হরতালের দিন ভয়ে ছিলাম।গাড়ি নিয়ে বের হতে পারি নি। একদিন না যেতেই আবার অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। জানি না কী করবে তারা (জামায়াত),কী হবে আমাদের মত গরিবদের।
প্রসঙ্গত,বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে পরিচিত থাকলেও অনেকেই হরতাল ও অবরোধের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারেন না। দুটি কর্মসূচিতেই প্রায় একই ধরনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে।
হরতাল
হরতাল হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন। হরতালের সময় সকল কর্মক্ষেত্র, দোকান, আদালত বন্ধ থাকে। তবে সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স, দমকলবাহিনী, গণমাধ্যমসমূহ এর আওতার বাইরে হয়ে থাকে। হরতাল গুজরাটি শব্দ। ‘হর’ মানে সব জায়গায় আর ‘তাল’ মানে তালা। অর্থাৎ হরতাল মানে সব জায়গায় তালা।
অবরোধ
যেকোন দাবি আদায়ের একটি বিশেষ মাধ্যম অবরোধ। অবরোধে মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে কর্মসূচি চলাকালে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ করে রাখা হবে। পরিবহন চলতে দেওয়া হবে না। অবরোধে মানুষের সাড়া দেওয়া বা না দেওয়ার কিছু নেই, বরং কর্মসূচি পালনে মানুষকে বাধ্য করা হয়।