২২ অক্টোবর ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট: সন্তানের জন্য বটবৃক্ষ বাবা।একজন জীবনের সোনালী অধ্যায় অকাতরে বিলিয়ে দেন সন্তানের আহ্লাদ পূরণে, মানুষ করতে গিয়ে।বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের হাতেই বাবার যাপিত জীবন।কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে তার উল্টো চিত্রও পরিলক্ষিত হয় সমাজে। যেমনটি হয়েছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হানিফ উল্ল্যার ছেলে আধিউর্ধ্ব আব্দুল হেকিমের বেলায়।
সম্পত্তির লোভে সন্তানদের মামলায় বৃদ্ধ বয়সে আসামির কাঠগড়ায় আশিউর্ধ্ব বৃদ্ধ মোহাম্মদ আব্দুল হেকিম।বাবার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেসহ ১৪টি মামলায় দায়ের করেছেন সন্তানরা। সম্পদের লোভী ছেলেদের ভয়ে তটস্ত বৃদ্ধা পিতা নিজের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন।
এই বৃদ্ধ বয়সে ঐরসজাত সন্তানদের দ্বারা মামলা-হামলায় জর্জড়িত হয়ে সুবিচার চেয়েছেন আশিউর্ধ্ব মোহাম্মদ আব্দুল হেকিম।
শনিবার (২১ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে নিজের ফরিয়াদ নিয়ে হাজির হন হয়ে লিখিত বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী তার ছেলে আব্দুল গণি (৪৪) সম্পত্তির লোভে তাকে বাড়ি ছাড়া করতে নিজে বাদি হয়ে এবং অন্য লোক দিয়ে ১৪টি মামলা করেছেন। তার সঙ্গে ছেলে আব্দুল ওয়াহাব (৩২), আবুল কালাম (৩০) এবং টাকার লোভে তাদের পক্ষ কলকাঠি নাড়েছেন বৃদ্ধ আব্দুল হেকিমের ছোট ভাই সামির উদ্দিন(৫৭)। তারা সকলে মিলে সম্পত্তি জোরপূর্বক দলিল করে দিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের সৃজনকৃত দলিলপত্রে স্বাক্ষর জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিতে চায়। এতে সম্মত না হওয়ায় মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হেকিম বলেন, এ ঘটনায় ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করি।আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে ওসমানীনগর থানাকে নির্দেশ দেয়।যার মামলা নং-জিআর ২৩০/’২১। মামলা দায়েরের পর আমার সন্তান ও তাদের সহযোগীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। এরপর ওই বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টি করে। তাকে বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিতে চায়। প্রতিকার চেয়ে ওই বছরের ২১ নভেম্বর পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত দরখাস্ত দেই। কিন্তু এরপরও তাদের আক্রোস আমার প্রতি থেমে থাকেনি।
নিরাপত্তার স্বার্থে আমি ওসমানীনগর অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আব্দুল হেকিম।ভোক্তভোগী হিসেবে ৫২ টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়াতে সংবাদ প্রচার করেন।কিন্তু দেশে-বিদেশে থাকা আমার ছেলেরা ও তাদের সহযোগীরা মান সম্মান নষ্ট করতে ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আজেবাজে মন্তব্য করে।এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত মামলা (নং-১১৩/২০২২) করেন আব্দুল হেকিম। মামলাটি তদন্ত করে অপরাধের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
পরবর্তীতে আব্দুল গণি যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়। মামলা থেকে স্থায়ী জামিন নিতে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজিরা দিলে আদালতের বিচারক তাকে ভৎসনা করেন।
আব্দুল হেকিম বলেন, বিচারকের নির্দেশে সে মাফ চাইলে পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়। এই সুযোগে সংবাদ সম্মেলনের ইস্যুতে পিতার বিরুদ্ধে এবং সাংবাদিকদের জড়িয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে দরখাস্ত মামলা (নং-১৯৬/২০২৩) দায়ের করেন আব্দুল গণি। মামলায় তার বাবা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনের নিউজ লিংক শেয়ার দেওয়া আনোয়ার হোসেন, ওসমানীনগর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তী ও অনলাইন ভিত্তিক ৫২ টেলিভিশনের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন রাসেলসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করেন। আক্রোস মেটাতে গিয়ে বাবার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার মোকাবেলা করতে বাবার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন আব্দুল গণি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সন্তানদের মানুষ করতে অন্য বাবাদের মতো তিনিও সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন পড়ালেখা করিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। পড়ালেখা করিয়ে ডিগ্রী অর্জন করাতে পারলেও মানুষের মতো মানুষ করতে পারেননি।
তার মতে, ‘যে সন্তানদের জন্য অকাতরে সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছি, সেই সন্তানই এখন পিতাকে কারাগারে নিমজ্জিত করতে চায়, হত্যার হুমকি দেয়। সম্পদ হরণ করতে সন্তানরা অত্যাচারি রূপ ধারণ করেছে।তাকে সহায়তা যারাই এগিয়ে এসেছেন, তাদেরও মামলা দিয়ে নির্যাতন নিপীড়ন করছে।
আব্দুল হেকিম বলেন, বাবা হিসেবে কখনো ছেলের মানসম্মান নষ্ট হোক চাইনা।কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সে ছেলেদের রোষানল থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় ও সংবাদ করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আশঙ্কা করছেন যে কোন মুহূর্তে বখে যাওয়া সন্তান আব্দুল গনিসহ অন্য সন্তানরা তাকে হত্যা করতে পারে। তাই একজন অসহায় পিতার পাশে দাঁড়াতে এবং যে সকল সাংবাদিকদের উপর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার ছেলে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে, সেটি খারিজ করে ভয়ংকর প্রতারক সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
আজকের সিলেট ডটকম / শিচজ