২০ অক্টোবর ২০২৩
শিপন চন্দ জয় : আজ মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা। এবছর ভক্তদের কাছে দেবী আসছেন ঘোটকে চড়ে। ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা।
আজ সকাল থেকেই সিলেটসহ দেশের সবত্র মন্দিরে মন্দিরে শোনা যাচ্ছে উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর আর ঢাকের বাদ্য, চণ্ডিপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে মণ্ডপ এলাকা।
এবার সিলেট মহানগর ও জেলায় ৬১৭টি মন্ডপে পূজার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে সার্বজনীন ৫৬৯টি, পারিবারিক ৪৮টি।
মহানগরীতে ১৫১টি পূজার মধ্যে সার্বজনীন ১৩৪টি ও পারিবারিক ১৭টি। জেলায় ৪৬৬টি পূজার মধ্যে সার্বজনীন ৪৩৫টি ও পারিবারিক ৩১টি।
জানা যায়, মহানগরীর ৬টি থানা এলাকায় এবার মোট ১৫১টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোতোয়ালী থানা এলাকায় ৩৯টি, জালালাবাদ থানা এলাকায় ১৮টি, এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় ৩৮টি, শাহপরান থানা এলাকায় ২৩টি, দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় ১৫টি ও মোগলাবাজার থানা এলাকায় ১৮টি।
অন্যদিকে, জেলায় মোট ৪৬৬টি মন্ডপে পূজার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সার্বজনীন ৪৩৫টি ও পারিবারিক ৩১টি। জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৬৬টি, বালাগঞ্জে ৩২টি, কানাইঘাটে ৩১টি, জৈন্তাপুরে ২৩টি, বিশ্বনাথে ২৫টি, গোয়াইনঘাটে ৩৯টি, জকিগঞ্জে পূজা ৯৮টি, বিয়ানীবাজারে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ২৮টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ৪০টি এবং ওসমানীনগর উপজেলায় ৩৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
হিন্দু পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় বসন্তকাল; কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করেন। সেই থেকে অকালবোধন হওয়া সত্ত্বেও শরৎকালেই দুর্গাপূজা প্রচলন হয়ে যায়।
সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন ‘দুখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা’। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এবার দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নিবেন দোলায় চড়ে।
সিলেটসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ এবং র্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
আজকের সিলেট ডটকম / শিচজ