২৩ আগস্ট ২০২৩


রওশন জানেন না কিছুই : বিজ্ঞপ্তি নিয়ে জাপায় তোলপাড়

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : মঙ্গলবার আচমকাই জাতীয় পার্টিতে (জাপা) শোরগোল। জি এম কাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে, দলটির পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। এতে দলটির ৪ জন কো চেয়ারম্যান ও ২ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যেরও সায় আছে, এমন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

রওশন এরশাদ দলটির নতুন চেয়ারম্যান এমন খবরে বনানীতে জিএম কাদেরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন জাপার অনেক নেতাকর্মীও।

এমন এক সময় এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো, যখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তিন দিনের সফরে ভারতে অবস্থান করছেন। আর গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

যদিও জাপার এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন নয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দলটির চেয়ারম্যান থাকার সময়ও একাধিকবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তার স্ত্রী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। এরশাদের মৃত্যুর পর দেবর ও দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান রওশন।

বলা চলে, শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্বের জেরে দলটিতে দুটি ধারা এখন স্পষ্ট। জিএম কাদেরপন্থিদের দাবি, বিভিন্ন কারণে দল থেকে বহিষ্কৃতরা রওশনপন্থিদের নেতৃত্বে আছেন। তারা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কাজ করায় দলটির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

২২ আগস্ট বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে প্রেস নোট (জাপা) নামক হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে লাঙল মাল্টিমিডিয়ার পক্ষে কাজী লুৎফুল কবীর জানান, দলের পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। এতে জাপার ৬ জন শীর্ষ নেতার সম্মতি রয়েছে মর্মে তাদের স্বাক্ষর সম্বলিত সভার কার্যবিবরণীও দেওয়া হয়।

যদিও দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তথ্যটি সঠিক নয়। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রে এভাবে চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ নেই।

গত বছর ৭ ডিসেম্বর সভার এক কার্যবিবরণীতে বলা হয়, মামলা-মোকদ্দমায় জাতীয় পার্টির চলমান অচল অবস্থা নিরসনে ৪ জন কো-চেয়ারম্যান ও ২ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদকে সংকট উত্তরণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এতে তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্টির চার কো-চেয়ারম্যান ও ২ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রধান পৃষ্ঠপোষককে ক্রান্তিকাল মোকাবিলায় অস্থায়ী ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। কো-চেয়ারম্যানরা হলেন, এ.বি.এম রুহুল আমিন হাওলাদার ,অ্যাডভোকেট. কাজী ফিরোজ রশীদ, এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অ্যাড. সালমা ইসলাম। আর প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও ডা. নাছরিন জাহান রত্নী। যা মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) রওশন এরশাদ গ্রহণ করেছেন বলে দেখা যায়।

তবে এটি অস্বীকার করেছেন রওশনপন্থিরা। রওশন এরশাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমি বেগম রওশন এরশাদ, এমপি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, পার্টির সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্তক্রমে দলের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। এতে ৩ জায়গায় পার্টির স্থলে লেখা হয়েছে ‘পাটি’। আর চেয়ারম্যানের স্থলে লেখা হয়েছে ‘চেয়াম্যান’। এছাড়া রওশনকে চেয়ারম্যান করতে সম্মতিক্রমে ৬ নেতার স্বাক্ষর সম্বলিত যে কার্যবিবরণী আছে তাতে তারিখ দেওয়া আছে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। যা রওশন এরশাদ ২২ আগস্ট গ্রহণ করছেন মর্মে স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ জাগো নিউজকে বলেন, যারা প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তারা বিস্তারিত বলতে পারবে।

রওশনপন্থি নেতা ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, বিষয়টি আমি এখনো ক্লিয়ার না। আপনাকে পরে জানাতে পারবো।

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবার জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেন, রওশন এরশাদ এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে কিছুই জানেন না। নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণার প্রশ্নই আসে না। আমাদেরই কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে এটি ছড়িয়েছেন। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন