২০ আগস্ট ২০২৩
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ভারত সীমান্তে খুন হওয়া যুবক আলমগীর হত্যা মামলার চার আসামী গ্রেফতার হয়েছে। আটকের পর মধ্যনগর থানা পুলিশের হাতে উঠে এসেছে গোপন রহস্য। আলমগীর হোসেন(১৯)উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের রুপনগর গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের পুত্র। গত ১৭ই জুন’২৩ইং বিকেলে রুপনগরস্থ নিজ বসত বাড়ী থেকে বের হয়। পরবর্তীতে আলমগীর হোসেন আর বাড়ীতে ফিরেতে পারেন। এবিষয়ে ভাই জাহাঙ্গীর মিয়া ১৯শে জুন মধ্যনগর থানায় একটি ডায়েরী করেন। সাধারন ডায়েরী নং-৭৯৫। এরপরেই অনুসন্ধানে নামে মধ্যনগর থানা পুলিশ।
২৫শে জুন সকালে মোঃ আলমগীর হোসেনের মৃতদেহ মধ্যনগর থানাধীন বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের ১১৯০/৭ এস মেইন পিলার হইতে অনুমান ০৩ কি.মি ভারতের অভ্যান্তরে রংডংগা নতুন গারো বস্তির জঙ্গলে খোঁজ মিলে। পরে বিজিবি’র মাধ্যমে বিএসএফ ও ভারতীয় থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত হন। একপর্যায়ে ২৭শে জুন বিজিবি ও বিএসএফ’র পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় থানা পুলিশ আলমগীর হোসেন এর মৃত লাশ মধ্যনগর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।
মধ্যনগর থানা পুলিশ আলগীর হোসেনের মৃত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
আলমগীরের মা মমতা বেগম(৫৫) উক্ত ঘটনার বিষয়ে আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন ১৮ই আগষ্ঠ মধ্যনগর থানায়। নং-০২, ধারা-৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
মধ্যনগর থানার ওসি মোঃ জাহিদুল হক নাজমূল জানান, আমার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহযোগীতায় কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল উপজেলা ও মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এজাহার নামীয় সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছি।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা একই ইউনিয়নের রুপনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসেমের পুত্র মোঃ সুয়েল মিয়া (৩৩), শ্রীপুর গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হাসান লাল চাঁন (৩৬) আলমগীরের সৎভাই, ইছামারী গ্রামের ছায়েব আলীরপুত্র আব্দুল হক (৩২) ও রুপনগর গ্রামের সুন্নত আলীরপুত্র জয়নাল হক(৩৪)।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের কাছ থেকে উঠে আসে, লাল চাঁন ও ভিকটিম আলমগীর তারা সম্পর্কে সৎ ভাই। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধিতার জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলমগীরকে খুন করার উদ্দেশ্যে বাকাতলা থেকে অপহরন করে এবং প্রলোভনে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে হত্যা করে।