২০ আগস্ট ২০২৩


ভারত-যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আ.লীগ-বিএনপিতে উত্তাপ

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই আলোচনা বাড়ছে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত ও আমেরিকার নানা কর্মকাণ্ড ঘিরে। চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের রাজনীতিতে বিদেশিদের নানা প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকায় বিদেশিদের আনাগোনাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সম্প্রতি ক্ষমতাধর এ দেশ দুটি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা হিসাব নিকাশ জায়গা করে নিয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে গতকাল দেশের সবচেয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে দেশ দুটির প্রসঙ্গ এসেছে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশে।

‘শেখ হাসিনাকে দুর্বল করলে ক্ষতি সবার’ উল্লেখ করে ক’দিন আগে নয়াদিল্লি বার্তা দিয়েছে আমেরিকাকে। এ খবর গণমাধ্যমে আসার পর ভারতের ওপর চটেছেন বিএনপির নেতারা।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যদি ভারত কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেটা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পত্রিকায় দেখলাম ডয়চে ভেলের বরাত দিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করা হয়েছে। এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যদি ভারত কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেটা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনে করি, সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবং এই অঞ্চলের মানুষের জন্য শুভ হবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে যে সংকট, সেই সংকটের মূলে হচ্ছে এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপরে যে অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে রাষ্ট্রকে দিয়ে, বলা যেতে পারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস গড়ে তুলে ‘টোটালি একটা ডিপ স্টেট’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশ যারা গণতন্ত্রের কথা বলে সব সময়, তাদের কাছে এটা অপ্রত্যাশিত।’ আর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমেরিকাকে রাজপথের বিরোধীদল বিএনপির নেপথ্য শক্তি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কিন মুলুকের নানাপ্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নানা বক্তব্য সরকারের ওপর এক ধরনের চাপ সষ্টি করেছে। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ চাপের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার তার বক্তব্যে আমেরিকার বিভিন্ন বিরোধিতার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। আমেরিকা স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দিলে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে কিছু কিনবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আমেরিকা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়- এ কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে আমেরিকাও ইতোমধ্যেই র‌্যাব ও পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে- যা সরকার নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে আসছে। এছাড়া নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার কর্মকাণ্ডকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মার্কিনিদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘দাওয়াত না দিলেও মেহমান আসে।’

যদিও সম্প্রতি আমেরিকার রিপাবলিকান ও ডেমেক্র্যাট দলের দুজন সিনেটর বাংলাদেশে এসেছিলেন। নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চায়ের আমন্ত্রণের নামে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও। আওয়ামী লীগ খোলাখুলি না বললেও বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছে না।

এদিকে শেখ হাসিনার সমর্থনে ভারত যে বার্তা ওয়াশিংটনকে দিয়েছে- সে বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কথা বলেছেন। বাংলাদেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের বার্তা দেওয়াকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয় দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়ে এই ভূখণ্ডে ভারত ও আমেরিকার অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। তাই ভারত আমেরিকাকে কিছু বললে তারা তাদের স্বার্থে বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি তাকিয়ে আছে আমেরিকার দিকে। আর আওয়ামী লীগ তাকিয়ে আছে দেশের জনগণের দিকে। উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ ভোট দিলে আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্র পরিচালনায় আসবে।’

শেয়ার করুন