১৮ আগস্ট ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুধু বাঙালি জাতির জন্য নয়, সারা বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত, মুক্তিকামী মানুষের জন্য নজিরবিহীন মর্মস্পর্শী শোকের দিন। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহান নেতা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পুরো পরিবার মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শুধু শোকের দিন হিসেবে নয়, প্রতিহিংসা ও বিশ্বাসঘাতকতার দিবস হিসেবে ১৫ আগস্ট দিনটি পালন করলেও ভুল হবে না। যেই বাঙালিদের জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, কারাগারে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর, সেই বাঙালির কেউ তাঁকে হত্যা করতে পারে বঙ্গবন্ধু কখনো তা বিশ্বাস করতেন না। ১৫ আগস্টের ভয়াল, বর্বর ও নির্মম হত্যাকান্ড নিছক কোন রাজনৈতিক বা পারিবারিক হত্যাকান্ড ছিলোনা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চক্রান্তের ফলে এই নৃসংশ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিলো। ১৫ আগস্টের সেই বর্বোরচিত হত্যাকান্ড ছিলো সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর রোধ ও বাঙালির স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করার চক্রান্ত।
শুক্রবার বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য। শুধু মাত্র একটি স্বাধীন সার্বোভৌমত্বের রাষ্ট্র প্রতিষ্টার জন্য জীবনের বেশীরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন জেলের অন্ধকার কপোষ্টে৷ স্বাধীনতার পর মাত্র ৩ বছরে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন জাতির পিতা। স্বাধীন বাংলাদেশের সেই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে রহিত করার জন্যই সেদিন বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকরে এবং বঙ্গবন্ধুর ১০ বছরের নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলকে হত্যা করতেও সেই খুনিদের হাত কাপেনি,কারন তারা ছিলো নরপিশাচ। শুধু তা ই নয় বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা যাবেনা বলে অধ্যাদেশ জারি করে ঐ খুনিরা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলো, কিন্তু সেই নরপিশাচরা ভুলে গিয়েছিল যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুছে দেয়া যাবেনা, কারন বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।
গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি মোহাম্মদ আছলমের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল আলী মাষ্টারের সঞ্চালনায় সভায় প্রদান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট নাছির উদ্দিন খান,বিশেষ অথিতি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আশফাক আহমদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট আব্বাস উদ্দিন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুর রহমান লেবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুবাস চন্দ্র পাল ছানা, সামছুল আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান আফিয়া বেগম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল হক, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ফারুক আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক শাহাব উদ্দিন,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম,সাধারাণ সম্পাদক ছয়ফুল আলম আবুল,জেলা পরিষদের সদস্য সুবাস দাস,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান,উপজেলা যুবলীগের সদস্য নজরুল ইসলাম,গোলাম করিম শামীম,গোলাম কিবরিয়া রাসেল,সালেহ আহমদ,সুহান দে,জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী,জুবের আহমদ,সুহেল আহমদ,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মারুফুল হাসান মারুফ ,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আবুল কালাম,সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার,উপজেলা তাতীলীগের সভাপতি দীপক চক্রবর্তী নান্টু,সাধারন সম্পাদক সাবুল হোসেন,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজান সিদ্দিক সাবুল, সভাপতি সুফিয়ান আহমদ,সাধারণ সম্পাদক গোলাম রেজওয়ান রাজীব,কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ,ছাত্রলীগ এর সভাপতি ,সাধারণ সাধারণ সম্পাদক সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন সারির নেতৃবৃন্দ।
এর আগে মন্ত্রী ইমরান সকাল ১০টায় গোয়াইনঘাট ইমরান আহমদ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নির বডির সভায় যোগ দেন।পরে দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলা চত্তরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল এবং স্কুল ব্যাগ ও ক্ষুদ্র নৃ -গোষ্টী অসহায় পুরুষ মহিলাদের মধ্যে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের মাধ্যমে গবাদি পশু বিতরণ করেন।