১৭ আগস্ট ২০২৩


রাজনৈতিক উত্তাপে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : কোভিড পরিস্থিতির পর ব্যবসায়ীরা যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যার প্রভাব পড়েছে সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টার মধ্যে আবার দেশে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ এখন সরব। সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে সরকারি দলও। এতে ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এতে ব্যবসায়ীরা শঙ্কায় রয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোভিড পরিস্থিতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের কারণে কয়েকটি বছর ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো যায়নি। এখন যদি নতুন করে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয় তাহলে তারা ছাড়াও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে দেশের অর্থনীতি। তাই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জানান তারা।

গত ১২ জুলাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারসহ বেশ কিছু দাবিতে এক দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ওই কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে রাজপথের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে দলটি। বিএনপির এই কর্মসূচির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করছে দেশের ছোট বিরোধী দলগুলোও। তারাও বিএনপির কর্মসূচির দিন রাজপথে থাকে।

বিরোধী জোটের কর্মসূচির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে থাকছে সরকারি দলও। একইদিনে সব দল রাজপথে নামায় থমকে থাকে রাজধানীর বড় অংশের রাস্তাঘাট। বন্ধ থাকছে এসব এলাকা দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কে থাকেন রাজধানীবাসীও।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। তাই এ নিয়ে বাণিজ্যিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এমনিতে কোভিড পরিস্থিতি, রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণে গেল কয়েক বছর ব্যবসায় অনেক মন্দা গেছে। আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে তাদের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেজন্য দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সারা দেশের মানুষই একটা শঙ্কার মধ্যে থাকে। ব্যবসায়ী হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে শঙ্কা বেশি থাকা স্বাভাবিক। তবে এখনও খুব খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধান করবে।’

একই আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সহ সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, ‘আমরা চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একটা দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দরকার। সেক্ষেত্রে তো শঙ্কা রয়েছেই। আমরা আশা করব দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এবং দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু অস্থিতিশীল হলেই ক্ষতির মুখে পড়ে পরিবহন সেক্টর। রাজনৈতিক দলগুলোর রাজপথের কর্মসূচিতে জ্বালাও পোড়াওয়ের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। গাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ প্রায় সময়ই ঘটে। তাই রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি শঙ্কায় থাকেন এই সেক্টরের ব্যবসায়ীরা।

বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেই আমাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি পালন করতেই পারে। কিন্তু গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এসব যেন না করে। এসব সন্ত্রাসী কাজ। আমরা আশা করছি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম করবে না।’

সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। বাদ যাবে না আমাদের এই সেক্টরও। আমাদের বিশ্বাস রাজনৈতিক দলগুলো এমন কোনো কর্মসূচি দেবে না যাতে অর্থনীতির ক্ষতি হয়। আমরা আশা করছি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধান হবে।’

শুধু বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসায়ীরাই নন, আতঙ্ক বিরাজ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। তাই রাজপথ উত্তপ্ত না করে আলোচনার মাধ্যমে সরকার ও বিরোধীদল এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।

শেয়ার করুন