৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


সিলেটে জিপিএ-৫ এর রেকর্ড, এগিয়ে মেয়েরা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এ বছর সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া এবার বোর্ডের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৮৭১ শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ৭৩১ জন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল ফলাফল প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এবছর সিলেট বোর্ডে মোট ৬৬ হাজার ৪৯১ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৪ হাজার ১২২ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এবার অতিবন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় আমাদের ফলাফল একটু খারাপ হয়েছে। তবে ২০১৯ এর ফলাফলের তুলনায় এবছর ফলাফল অনেক ভালো হয়েছে। ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক হাজার ৯৪ জন। আর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।

এদিকে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৬১ শতাংশ। অপরদিকে ছেলেদের পাসের হার ৭৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৬৮৯ জন মেয়ে এবং ছেলেদের মধ্যে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে দুই হাজার ১৮২ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাত্র ৫১২ জন এবং মানবিক বিভাগের এক হাজার ২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।

শিক্ষাবোর্ডের হিসাব অনুযায়ী- এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৬ হাজার ৪৯১ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৯ জন ছেলে। যেখানে পাস করেছে ২২ হাজার ৮৭৮ জন। ৩৭ হাজার ৮২২ জন মেয়ের মধ্যে এবার পাস করেছে ৩১ হাজার ২৪৪ জন।

অপরদিকে, পাসের হারে মেয়েদের থেকে পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েদের থেকে পেছনে পড়েছে ছেলেরা। সিলেট শিক্ষাবোর্ডে এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৮৭১ জন। এরমধ্যে দুই হাজার ৬৮৯ জন মেয়ে এবং ছেলেদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে দুই হাজার ১৮২ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬৬ হাজার ৪৯১ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ৫৪ হাজার ১২২জন। পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছে মানবিক বিভাগ থেকে আর সবচেয়ে কম অংশগ্রহণ করেছে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে। তবে সবচেয়ে বেশি পাসের হার বিজ্ঞান বিভাগের। এ বিভাগের পাসের হার ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে, জিপিএ-৫ ও সবচেয়ে বেশি পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগের তিন হাজার ৩৩৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৬৯৮ জন ছেলে ও এক হাজার ৩৫ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১২ জন। এরমধ্যে ২২৪ জন ছেলে ২৮৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ২৬ জন। এরমধ্যে ২৬০ জন ছেলে শিক্ষার্থী এবং ৭৬৬ জন মেয়ে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ১৩৩ জন। এরমধ্যে ছেলে পাঁচ হাজার ৬৫৯ ও মেয়ে ছয় হাজার ৪৭৪ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৯৮০ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ হাজার ২০৮ জন ছেলে ও পাঁচ হাজার ৭৭২ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। শতকরা হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ৬৫১ জন শিক্ষার্থী সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছে। এ বিভাগে ছেলেদের থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ২৬ হাজার ৫৪৭ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছেলে শিক্ষার্থী ১৮ হাজার ১০৪ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৫ হাজার ৩৫৪ জন। এরমধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৬৭০ জন আর মেয়ে ২১ হাজার ৬৮৪ জন। শতকরা হিসেবে মানবিক বিভাগে পাশের হার ৭৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছে ৯ হাজার ৭০৭ জন। এরমধ্যে ছেলে চার হাজার ৯০৬ জন। চার হাজার ৯০৬ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে সাত হাজার ৭৮৮ জন। এরমধ্যে তিন হাজার ৭৮৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এবং চার হাজার জন ছেলে। শতকরা হিসেবে এ বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেটে শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। অন্যদিকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান একটিও নেই।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২০১৮ সালে শুধুমাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

শেয়ার করুন