১৩ আগস্ট ২০২৩


শিলং ট্যুর ও বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমান, শিলং (মেঘালয়, ভারত) থেকে ফিরে : ভারতের মেঘালয়া রাজ্য’র রাজধানী শিলং ট্যুর করছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মওসুমে ছুটির দিনগলোতে শিলংয়ের শীতল হাওয়া গায়ে লাগিয়ে সপরিবারে দু’চারদিনের ট্যুর অভিজাত বাংলাদেশিদের জন্য খুই আনন্দদায়ক। আর এ আনন্দ ভ্রমনে শিলং যেতেই নানা বিভম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাংলাদেশি ভ্রমন পিপাসুদের।

শিলং ট্যুর করতে প্রথমত আপনাকে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ভিসা নিতে হবে। ভিসার জন্য বাংলাদেশি ৮২৪ টাকা দিয়ে আবেদন এবং তিন থেকে চার সপ্তাহ পর ভিসা পেলেও আপনাকে আরো অনেক কাজ করতে হবে। সোনালী ব্যাংকে  রোডট্যাক্স জমা দিয়ে ডাবল কপি রসিদ নিতে হবে। পাসপোর্টের শেষের পাতায় ব্যাংক অথবা মানি এক্সচেন্জ থেকে ১৫০ ডলার অনলাইন এন্ডুজম্যান্ট ও সাথে ১৫০ ডলার ক্যাশ রাখতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে ভিসা নিলেও যাওয়ার আগে যে কোনো মানি চ্যান্জার থেকে পাসপোর্টে ১৫০ ডলার উইন্ডোজ করাতে হবে। পাসপোর্টের শেষপাতায় এন্ডুজম্যান্ট লেখা না থাকলে আপনাকে ভারতের ইমিগ্রেশন পোস্ট থেকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।

সবকিছু ঠিকটাক করে বাংলাদেশের সীমন্ত চেকপোস্ট এসে প্রথমে পড়তে হয় ট্যুর ব্যবসায়ীদের কবলে ও ইমিগ্রেশন বিড়ম্বনায়। ট্যুর ব্যবসায়ীরা একসাথে একগাদা পাসপোর্ট তুলে দেয় পুলিশের হাতে। ট্যুর ব্যবসায়ীদের পাসপোর্টের ইমিগ্রশন কাজ শেষ না করে আপনি একা একজনের অথবা এক পরিবারের লোকদের ইমিগ্রেশন দেবে না বাংলাদেশ পুলিশ। তাই ট্যুর ব্যবসায়ীদের গঠিত টিম ছাড়া গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশ অফিসের বারান্দায় অথবা অফিসের বাইরে বৃষ্টিতে। অনুরূপ অপেক্ষা ও বিড়ম্বনা কাস্টমস চেকিংয়ে কাউন্টারে। কারণ সবখানেই ট্যুর ব্যবসায়ীদের প্রধান্য ও ঝামেলা। বাংলাদেশ সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আরো তিনটি চেক। বিএসএফ চেক, ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশ চেক ও কাস্টমস চেক ।

তার পর গাড়ির অপেক্ষা, ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশনের গাড়ি দিয়ে আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে ভারতের সীমান্তবর্তী নতুন ডাউকী টার্মিনালে। গাড়ির সিট পরিমান লোক না হলে আপনাকে নিয়ে যাবে না নবনির্মিত টার্মিনালের ইমিগ্রেশন পোস্টে।

নতুন টার্মিনালের ভেতরে অবশ্য বসার বা ছাদের নিচে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা আছে। তবে সেখানেও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে আপনাকে পিছিয়ে থাকতে হবে ট্যুর ব্যবসায়ীদের গাদা পাসপোর্টের ঠেলায়।

ইমিগ্রেশন শেষ, সরকারি গাড়িতে করে আবার সরকারি গাড়ি দিয়ে নিয়ে আসবে বিএসএফ চেকপোস্টের সামনে। এর পর আপনার যাত্রা গন্তব্যের দিকে।

বিএসএফ চেকপোস্টে ফের পৌছেও গাড়ির দালালদের দৌরাত্ম, গলাকাটা ভাড়া নেবে ভারতীয়রা। আপনি একা হলে আর উপায় নেই। আপনাকে একা নেবে না কোনো গাড়ি। তাই সবখানেই দেরি, সবখানেই গাড়িওয়ালাদের দৌরাত্ম। চেকপোস্ট থেকে ডাউকি বাজার মাত্র আড়াই কিলোমিটার। জনপ্রতি টেক্সী ভাড়া ১০ রুপি। কিন্তু সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে আপনাকে গুনতে হবে ৫০ থেকে ১০০ ভারতীয় রুপী। ডাইকি থেকে সোমো জীপ গাড়ি করে শিলং জনপ্রতি ২৫০ রুপি ভাড়া হলেও সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দিতে হয় ৫০০ রুপি। শিলংয়ে হোটেল ভাড়া বেশি। সেখানকার হোটেলগুলোর ৯৫ ভাগ বোর্ডার বাংলাদেশিই হয়ে থাকেন। তাই সাদমাটা একটি হোটেলে জনপ্রতি গুনতে হয় কমপক্ষে ১৫০০ টাকা।

ট্যুর করে দেশে ফেরত যাওয়ার সময় বিকেল ৫ টার আগেই ইমিগ্রেশন করাতে হবে। ৫ মিনিট দেরি হয়ে গেলে আপনি আটকা পড়ে যাবেন সীমান্তের ওপারে। সীমান্তে ওপারে ডাউকি বাজারে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। আছে প্রইভেট দুএকটি গেস্ট হাউস। তখন সীমান্তের গেস্ট হাউসগুলোতে একরাত থাকতে হলে জনপ্রতি গুনতে হবে দুই থেকে আড়াউ হাজার রুপি করে।

সম্প্রতি ভারতে নতুন আকৃতি ও ডিজাইনের রুপি মূদ্রিত হয়েছে,যা অনেকটা ইউএস ডলারের মত। তাই ৫০০,১০০০ ও ২০০০ হাজার রুপির পূরাতন নোটগুলো সম্পূর্ণ অচল। তবে বাজারে টকবাজদের হাতে পূরনো নোটও রয়ে গেছে। এগুলো নিলে আপনি অবশ্য টকা খাবেন। তবে ৫০০ রুপির নিচের পূরান নোট এখনো চলমান। তাই ভারতীয় রুপি গ্রহণেও সতর্ক থাকতে হবে।

শেয়ার করুন