১১ আগস্ট ২০২৩


আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে কানাইঘাট-চতুল-দরবস্ত সড়ক সংস্কার

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারী তিন দফতরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কানাইঘাটে চার মাস ধরে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ। সরকারি দফতরগুলোর এমন জটিলতায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। এর পাশাপাশি কানাইঘাটের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট লোভাছড়া যেতেও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পর্যটকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে কানাইঘাট টু চতুল দরবস্ত সড়কের দুই কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই ও বাকি ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু করে সিলেট সড়ক বিভাগ। কিন্তু ৩০০ মিটার আরসিসি ঢালাইয়ের পর থেমে যায় কাজ।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে থাকা বিশাল আকারের গাছ ও সড়কের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজে ভাটা পড়েছে। সড়কে গাছ ও খুঁটি না থাকলে কাজ শেষ করতে এক মাস সময়ও লাগবে না। গাছ কাটা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে বন বিভাগ ও বিদ্যুৎ অফিসেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে বিবার্তাকে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

তবে বন বিভাগ গাছ কাটার বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলেও স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর ব্যাপারে লিখিত কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। এমনকি মৌখিকভাবেও জানানো হয়নি বলে দাবি তাদের।

সিলেট শহর থেকে কানাইঘাট উপজেলা প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি রাস্তার বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে উপজেলার কানাইঘাট টু চতুল দরবস্ত, বোরহানউদ্দিন সড়ক, কানাইঘাট ঘাট সড়ক ও অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটন স্পট লোভাছড়া যাওয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব সড়ক অনেকটা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কের কারণে উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন জানিয়ে গত ১ মার্চ উপজেলা সদরে মানববন্ধন করেছেন কানাইঘাট উপজেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এসময় তারা অবিলম্বে কানাইঘাট টু চতুল দরবস্ত ও বোরহানউদ্দিন সড়কের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ কানাইঘাট-চতুল-দরবস্ত সড়ক এবং পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ভেঙেচুরে বিশাল বিশাল গর্ত হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫ মাস আগেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘদিনে ধরে সড়কের বেহাল দশা থাকার পর সড়ক কেন সংস্কার করা হচ্ছে না- জানতে চাইলে সিলেট সড়ক উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই রাস্তা হচ্ছে। কানাইঘাটে ৬০০ মিটার আর বাকি অংশ বড় চতুল। এর মধ্যে ৩০০ ফুটের কাজ চলমান আছে। বাকি ৭-৮ কিলোমিটার বিটুমিন দিয়ে কাজ হবে। কিন্তু সড়কের পাশে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় আমরা কাজের জায়গা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগে ৩ থেকে ৪ মাস আগে বলেছি। কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা কাজটা ফেলে রেখেছে। ৩-৪ মাস আগে আমাদের যৌথ মেজারমেন্ট হয়েছে। তারা বলেছে টেন্ডার করেছে। কিন্তু কাজ তো হচ্ছে না। তারা এটাও বলেছে, যদি তাড়াহুড়া থাকে টাকা দেন কেটে দেই। এখন আমরা দুইটা গাছ কাটতে যদি ১ লাখ টাকা দেই… আরো ২৫টা গাছ আছে।

তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য আমরা বলেছি। কিন্তু জায়গা থেকেই সহযোগিতা না থাকায় কাজে লেন্দি হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি গাছ কাটা হবে এবং খুঁটি সরানো হবে- তত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হবে। গাছ কাটা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি না থাকলে এই কাজ শেষ করতে আমাদের সর্বোচ্চ এক মাস লাগবে।

সিলেট সারী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, উনারা আবেদন করেছেন। আমরা গাছ মার্কিং করেছি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছি। হয়তো আগামী ২০ তারিখে অকশন (নিলাম) হবে। নিলাম হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি (গাছ) কাঁটা হয়ে যাবে।

তবে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মৌখিক ও লিখিত আবেদন পাননি বলে জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ কানাইঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে হলে আবেদন করতে হবে। আবেদন করলে আমরা এস্টিমেট করব, হিসাব দিব। এরপর টাকা জমা দিলে খুঁটি সরানোর টেন্ডার হবে।

তিনি বলেন, তারা (সড়ক বিভাগ) আবেদনই করেনি। আমার কাছে অফিশিয়ালি কোনো চিঠিও আসেনি।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের গ্রামের বাড়ি সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।

কানাইঘাটের সড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার তো রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে। এখন লোকালি কিছু সমন্বয়হীনতার কারণে কাজ হয়তো ধীরগতিতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদেরও নজরে আছে। রাস্তাঘাট যাতে দ্রুত সংস্কার হয় এ বিষয়ে আমরাও যোগাযোগ করব।

শেয়ার করুন