২৮ জুলাই ২০২৩
শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে : কালের পরিক্রমায় দিন-দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তার সুদর্শন বাসা। এসব বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগাত এবং আত্মনির্ভশীল হতে উৎসাহ দিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও পরিবেশে বিপর্যয়ের কারণে পাখিটি আমরা হারাতে বসেছি। একসময় গ্রাম-গঞ্জের তাল, নারিকেল, সুপারী ও খেজুর গাছে এরা বাসা বেঁধে থাকতো। প্রকৃতি থেকে তাল আর খেজুর গাছ বিলুপ্ত হওয়ায় বাবুই পাখিও হারিয়ে যেতে বসেছে।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা, লক্ষীপুর, ও বগুলা ইউনিয়নের কিছু এলাকা ঘুরে দেখতে পাওয়া যায়, এখনো পুকুর পাড়ে, রাস্তার পাশে একপায়ে দাড়িয়ে রয়েছে অনেক তালগাছ। আর এসব তালগাছে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাবাই পাখির বাসা। এক সময় এসব তালগাছে দেখা যেতো নানান প্রজাতির বাবুই পাখি। দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই। তবে বাংলা ও দাগি বাবুই এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে কিছু দেশি বাবুই দেখা যায়। বাসা তৈরির জন্য বাবুই পাখির প্রথম পছন্দ তালগাছ। এরপর নারিকেল, সুপারি ও খেজুর গাছ। এরা খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবন দিয়ে বাসা বাঁধে। বাসার গঠনও বেশ জটিল, তবে আকৃতি খুব সুন্দর। বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত থাকে।
সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাসেই বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। একটি পুরুষ পাখির একাধিক বাসা ও পরিবার থাকতে পারে। বাবুই পাখি দুই থেকে চারটি ডিম দেয়। স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। তিন সপ্তাহ পর বাচ্চা উড়ে যায়। এরা মূলত বীজভোজী পাখি। তাই এদের ঠোঁটের আকৃতি সহজে বীজ ভক্ষণের উপযোগী চোঙাকার। আর ঠোঁটের গোড়ার দিকটা মোটা। এরা সাধারণত খুঁটে-খুঁটে বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ভাত, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে।
উপজেলা বগুলা ইউনিয়নের ঝুগিপাড়া গ্রামের নূর আলম জানান, এক সময় আমাদের বাড়ির পাশে রাস্তায় অনেক তালগাছ ছিল। এসব গাছে বাবুই পাখির কিচিরমিচির ডাক শোনা যেত সন্ধ্যা ও সকালে। তাদের চমৎকার সুরে মানুষের ঘুম ভাঙাতো। এখন দিনদিন হারাচ্ছে তালগাছ ও বাবুই পাখির বাসা। বাসা বাঁধার জায়গা না থাকায় এ পাখি বংশ বৃদ্ধি করতে পারছেনা। তাই এসব পাখি টিকিযে রাখতে তালগাছ সংরক্ষণ ও রোপণ জরুরি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সায়েম বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, প্রকৃতির বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ও পরিবেশ দূষণের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি আজ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। এখনো কিছু জায়গায় বাবুই পাখি দেখা যায়। তবে সবাইকে নিজ এলাকার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাহলেই কেবল বাবুইসহ অন্য পাখি ও প্রাণি সংরক্ষণ সম্ভব।