২৬ জুলাই ২০২৩


নজর রাখছে ইইউ, কারও পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর বলেছেন, নির্বাচনের আগে-পরের পরিস্থিতিতে নজর রাখবে ইইউ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ইমন গিলমোর।

অন্যদিকে, গত সোমবার (মার্কিন সময়) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বাংলাদেশে আলাদা করে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান নেবে না। তবে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত। এ সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়েছে।

যা জানালেন গিলমোর
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনের আগে ও পরে মানবাধিকারসহ সব ধরনের পরিস্থিতি নজরে রাখবে ইইউ। বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানবাধিকার। আমরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া ইইউর স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল প্রসঙ্গে গিলমোর বলেন, ইইউর প্রাক নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল সফর শেষে ব্রাসেলসে প্রতিবেদন পেশ করবেন। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে মানবাধিকার পরিস্থিতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গিলমোর। তার সঙ্গে ছিলেন ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) রাজনৈতিক উপদেষ্টা ভিক্টর ভিলিক। বৈঠকে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত এইচ ই চার্লস হোয়াইটলিসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এছাড়া মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও বৈঠক করেন গিলমোর। এ বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানতে চেয়েছেন ইইউ প্রতিনিধিরা। তাদের জানিয়ে দিয়েছি, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। তবে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।’

নির্বাচন নিয়ে তারা কী বলেছেন- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা বলেছেন- তারাও আশা করেন যে, একটি সুন্দর নির্বাচন হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ইমন গিলমোর। এটি তার দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর। সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ সফরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন গিলমোর। পাশাপাশি তিনি নাগরিক সমাজ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ঢাকায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান নেবে না
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে বা বিশ্বের অন্য কোনও দেশে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নিই না। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত।

ভিসা নীতি বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গত ২৪ মে ভিসা নীতি জারি করার সময় স্পষ্ট করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে এই ভিসা বিধিনিষেধগুলো প্রযোজ্য হবে। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে এমন কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, সহিংসতার ব্যবহার করে জনগণকে তাদের সংগঠনের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার থেকে বিরত রাখার মতো কাজ রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা মিডিয়াকে তাদের মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখার জন্য পরিকল্পিত যেকোনো ব্যবস্থার ব্যবহার হলে সেটিও এই নীতির মধ্যে রয়েছে।

মিলার বলেন, আমরা মানবাধিকারের ওপর যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধের বিরোধিতা করি এবং এই বিষয়ে এর চেয়ে বলার মতো আমার কাছে আর কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য নেই।

শেয়ার করুন