১৭ জুলাই ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা গোয়াইনঘাট : শখের বসে নয় জীবন ও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল কে অভিনব কায়দায় জিপ গাড়ি সদৃশ্য চার চাকার একটি গাড়ি তৈরি করে পরিবার-পরিজনের সদস্যদের মুখে দু বেলা দু-মুটো ভাত তুলে দিতে জীবনের চাকা ঘুরাচ্ছেন শামীম। গাড়ির চাকা ঘুরলে জীবিকা হয়। চাকা থেমে গেলে জীবিকার চাকাও থেমে যায়। জীবন-জীবিকার তাগিদে গাড়ির চাকা ঘুরিয়ে কাটে দিন চলে সংসারের খরচ।
শামীম গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের ভিতরগুল গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৭ সালে একটি অপ্রত্যাশিত সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদন্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অচল ও অবশ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার ব্যয় ভার মেটাতে দেখা দেয় আর্থিক দৈন্য দশা, কর্মহীন হয়ে পড়েন শামীম। পরিবারের সদস্য নিয়ে পড়েন বিপাকে।কিছুটা শারীরিক সুস্থতায় ফিরলে অন্য কোন কর্ম জানা না থাকায় নতুন করে শিখেন ইলেকট্রিকের কাজ। বন্ধু সাইদুলের সহযোগিতায় স্হানীয় কুপার বাজারে একটি দোকানে কাজ শুরু করেন। বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতে নিজ বুদ্ধিমত্তায় মোটরসাইকেল দিয়ে তৈরি করেন এই অভিনব গাড়ি।
এখানেই শেষ নয়, তৈরি করা এই গাড়িতে উঠতে তাকে ব্যবহার করতে হয় হুইল চেয়ার।হুইলচেয়ার করে গাড়িতে উঠেন এবং গাড়ি থেকে নামেন।অনেকেই গাড়িটি দেখে মনে করতে পারেন এই গাড়িটি তৈরি করেছেন যাত্রী পরিবহনে কিন্তু বাস্তবে তা নয়।গাড়িটি তৈরি করতে অনেকের কাছে হাত পাততে হয়েছে। ওয়ার্কসপ ইঞ্জিনিয়ার রহমান বিনা পারশ্রমিকে অসহায় শামীমকে গাড়ির বডি তৈরি করে দেন। এভাবে কোনরকমে ১২ সদস্য নিয়ে চলছিল শামীমের একান্নবর্তী সংসার। শামীমের শেষের গল্পটা আরো মর্মান্তিক।
পরিশেষে শামীম কিছু টাকা জমিয়ে ও কিছু টাকা মামার বাড়ি থেকে এবং আংশিক টাকা ধার করজ করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই শাহ আলমকে পাঠিয়েছিলেন ওমান প্রবাসে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ওমানে বড় ধরনের সামুদ্রিক বোট দুর্ঘটনার শিকার হয় ছোট ভাই শাহ আলম।ভাগ্যক্রমে বেঁচে থাকলেও শরীরের নাভির অংশ থেকে শুরু করে বাম পা কেটে পড়ে শাহ আলমের। বিদেশ চিকিৎসা শেষে দেশে এসে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।আবারও শামীমের সংসারে নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার।
সংসার খরচ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে শামীম এখন দিশেহারা দু চোখে জোনা পোকা দেখছেন।দেশ ও প্রবাসের এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আর্থিক সাহায্য সহযোগিতায় তার করুন আকুতি।