৬ ডিসেম্বর ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট: মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন অনেকেই। কেউ কেউ মাথা ধরলে বা ব্যথা করলেই নিজে নিজে ওষুধ খেয়ে নেন।কিন্তু এতে করে মাথাব্যথার মূল কারণ না জানাই থেকে যায়। পরবর্তীতে এটা থেকে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন’য়ের দেওয়া তথ্য মতে, মাথাব্যথা একটি অতি সাধারণ সমস্যা যা মানুষকে প্রায়ই ভোগায়। কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা অত্যন্ত যন্ত্রনাদায়ক হয়। তবে বেশিরভাগ সময় তা সাধারণ ব্যথার ওষুধেই সেরে যায়।
তবে মাথার ব্যথা যদি বারবার ফিরে আসে তবে তা হতে পারে মারাত্বক কোনো সমস্যার পূর্বাভাস। তাই বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। তাই বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা উচিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে বিভিন্ন রকম মাথাব্যথার ধরন সম্পর্কে এখানে ধারণা দেওয়া হল।
মাইগ্রেইনের মাথাব্যথা: এই ধরনের মাথাব্যথার সবচাইতে খারাপ দিক হল তা কয়েকদিন ধরে ভোগাতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত মাথার এক দিকে হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি আলো ও শব্দ সহ্য করতে পারে না। বমিভাবও হতে পারে। যাদের ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)’ আছে তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ঘুমের ব্যাঘাত, না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অ্যালার্জি ইত্যাদি থেকে এই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।
দুশ্চিন্তা থেকে মাথাব্যথা: এই ব্যথা দপদপের মতো নয়। বরং মাথার চারপাশে হালকা ব্যথা অনুভব করে আক্রান্ত ব্যক্তি। মনে হয় যেন মাথায় শক্ত করে কিছু বেঁধে রাখা হয়েছে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে।
সাইনাস থেকে মাথাব্যথা: এই ধরনের মাথাব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তি তাদের গাল এবং চোখেও চাপ অনুভব করেন। দুর্লভ উপসর্গের মধ্যে আছে দাঁতব্যথা এবং ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া। ‘সাইনাস’য়ে জমা ‘মিউকাস’ পরিষ্কারের মাধ্যমে এই ধরনের ব্যথার চিকিৎসা করা হয়।
হঠাৎ মাথাব্যথা: মাত্র এক মিনিটেই সুস্থ অবস্থা থেকে অসহ্য ব্যথায় কাতর করে ফেলে এই ধরনের মাথাব্যথা। ব্যথা বেশিরভাগ সময়ই পাঁচ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। তবে তা হতে পারে স্ট্রোক, ব্রেইন হ্যামারেজ, ব্রেইন ইনফেকশন, মস্তিষ্কের ধমনী বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্পাইনাল ফ্লুইড বেরিয়ে যাওয়া ইত্যাদি প্রাণঘাতি রোগের লক্ষণ। তাই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
‘ক্লাস্টার’ মাথাব্যথা: এই ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয় যে কোনো এক চোখের পেছনে। সঙ্গে থাকে ফোলা ও লালচে ভাব। ঘাম হয়। ব্যথাটা জ্বলুনিজাতীয় এবং তীব্র। নাক বন্ধ হওয়া এবং চোখে পানি আসার উপসর্গও দেখা যায়। ১৫ মিনিট থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এই ব্যথা। কয়েক ধাপে দিনে সর্বোচ্চ চারবার এই ব্যথা হতে পারে। বসন্তকালে এই মাথাব্যথা বেশি ভোগায় এবং নারীদের তুলনায় পুরুষের এটি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
অ্যালার্জি থেকে মাথাব্যথা: এই মাথাব্যথার প্রচলিত উপসর্গ হল নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি এবং চোখে পানি আসা। ঋতুভিত্তিক এই মাথাব্যথা বসন্তে বেশি ভোগায়। কোন জিনিসের সংস্পর্শে আসলে মাথাব্যথা হয় সেটা জানা এবং তা থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে যাচাই করলে বোঝা যাবে অ্যালার্জিজনীত মাথাব্যথা কিনা!
বিমানভ্রমণে মাথাব্যথা: প্রতি ১২ জনের মধ্যে একজন এই মাথাব্যথার শিকার হন। বাতাসের চাপের তারতম্যের কারণে মাথার একপাশে এই ব্যথা দেখা দেয়। পানি পান করতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রয়োজনে মাথাব্যথার ওষুধ খেতে হবে।
চাপজনীত মাথাব্যথা: ভারী ব্যয়ামের পর সাধারণত এই মাথাব্যথা শুরু হয়। আমেরিকান মাইগ্রেইন ফাইন্ডেশনের তথ্যানুসারে পাঁচ মিনিট থেকে তিন দিন পর্যন্ত ভোগাতে পারে এই ব্যথা। এই মাথাব্যথা খুব কমসংখ্যক মানুষেরই হয় এবং ছয় মাসের মধ্যেই পুরোপুরি সেরে যায়। ব্যথার ধরন দপদপানির মতো হতে পারে, সঙ্গে বমিভাবও লাগতে পারে। ভারী কোনো কাজের আগে ঘুমিয়ে নিলে উপকার পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে অসহ্য মাথাব্যথার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে।
পানির ঘাটতি: পানি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। আর্দ্রতা বজায় রাখে। হজমশক্তি বাড়ায়। শরীর সতেজ রাখে। তাই পানির অভাবে শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি মাথাব্যথাও হতে পারে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে।
খাবার নির্বাচন: অতিরিক্ত তেল মশলায় রান্না খাবার খাওয়াও অস্বস্তি ও মাথাব্যথার কারণ। খাবার হজম না হলে গ্যাস থেকে মাথা ধরে। তাই টাটকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার অল্প অল্প করে বারে বারে খান।
শোয়া-বসা: সঠিক ভাবে না শুলে বা বসলেও কিন্তু শিরদাঁড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা ছড়াতে পারে। একই সঙ্গে হজমের সমস্যাও দেখা দেয়।
স্মার্টফোন সারাক্ষণ: সারাক্ষণ স্মার্টফোন কানে? অনেকক্ষণ গ্যাজেট ব্যবহারের পর মাথাব্যথা করে? যন্ত্রে অতিরিক্ত আসক্তিও কিন্তু মাথাব্যথা ডেকে আনে। দীর্ঘদিন মাথাব্যথা থাকলে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।